Legacy of Abdul Qader Mollah

Dr. Nazrul Islam

 

AQM

শহীদ আব্দুল কাদের মোল্লার পরিচিতি ও ব্যক্তিগত জীবন

নামঃ আব্দুল কাদের মোল্লা
জন্মঃ ১৯৪৮ সালে ফরিদপুর জেলার সদরপুর থানার জরিপারডঙ্গী গ্রামে ।

শিক্ষাগত যোগ্যতাঃ
* ১৯৫৯ ও ১৯৬১ সালে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা বৃত্তি লাভ।
*১৯৬৪ সালে আমিরাবাদ ফজলুল হক স্কুল থেকে থেকে কৃতিত্বের সাথে সায়েন্সে প্রথম শ্রেণীতে মেট্রিক পাশ।
* ১৯৬৬ সালে ফরিদপুরের রাজেন্দ্র কলেজ থেকে বিজ্ঞানে ইন্টারমিডিয়েট পাশ।
* ১৯৬৮ সালে ফরিদপুরের রাজেন্দ্র কলেজ থেকে কৃতিত্বের সাথে বিএসসি পাশ।
* ১৯৭০-৭৪ সাল পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থ বিজ্ঞান মাস্টার্স। শহিদুল্লাহ হলের আবাসিক ছাত্র।
* ১৯৭৫ সালে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের অন্তর্গত শিক্ষা গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙ্গে মাস্টার্সে ১ম শ্রেণীতে ১ম হন। ফলে গোল্ড মেডেলিস্ট হিসেবে পুরুস্কৃত হন।

রাজনৈতিক ও চাকরীজীবনঃ
* হাইস্কুল ও কলেজ জীবনে কমিউনিস্ট পার্টির ছাত্র ইউনিয়নের সাথে জড়িত ছিলেন।
* ১৯৭৯ সালে জামায়াত-ই-ইসলামী-তে যোগদান।
পেশাগত যোগ্যতাঃ
* ১৯৭৪-৭৫ পর্যন্ত (মাস্টার্স করা কালীন) আর্থিক সংকটের কারনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থিত উদয়ন স্কুলে শিক্ষকতা।
* শেমু রহমান কর্তৃক ইসলামী ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠার পর সেখানে যোগদান।
* ১৯৭৭ সালে পিলখানায় অবস্থিত বাংলাদেশ রাইফেলস স্কুল এন্ড কলেজে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান।
* ১৯৮১ সালে দৈনিক সংগ্রামের নির্বাহী সম্পাদক হিসেবে যোগদান। উল্লেখ্য তিনি ছাত্রজীবন থেকেই সংবাদপত্রে বিভিন্ন বিষয়ে নিয়মিত লিখতেন।
* ১৯৮২ ও ১৯৮৩ সালে পর পর দুবার অবিভক্ত ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের নির্বাচিত সহ-সভাপতি ছিলেন।

শাহাদাতঃ ২০১৩ সালের ১২ ডিসেম্বর দিবাগত রাত ১০.০১ মিনিটে। (পরাজিত শক্তি ভীত হয়ে তড়িঘড়ি করে স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসের সকল নিয়ম ভঙ্গ করে তাঁকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করে)

 

 

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
প্রিয়তমা জীবন সাথী পেয়ারী,
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ। আজ পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হওয়ার পর খুব সম্ভব আগামী রাত বা আগামীকাল জেলগেটে আদেশ পৌঁছানোর পরই ফাঁসির সেলে আমাকে নিয়ে যেতে পারে। এটাই নিয়ম।
সরকারের সম্ভবত শেষ সময়। তাই শেষ সময়ে তারা এই জঘন্য কাজটি দ্রুত করে ফেলার উদ্যোগ নিতে পারে। আমার মনে হচ্ছে তারা রিভিউ পিটিশন গ্রহণ করবে না। যদি করেও তাহলে তাদের রায়ের কোনো পরিবর্তন হওয়ার দুনিয়ার দৃষ্টিতে কোনো সম্ভাবনা নেই। মহান আল্লাহ যদি নিজেই এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ইচ্ছার বিরুদ্ধে তার সিদ্ধান্ত কার্যকর করেন, তাহলে ভিন্ন
কথা। অথচ আল্লাহর চিরন্তন নিয়মানুযায়ী সব সময় এমনটা করেন না। অনেক নবীকেও তো অন্যায়ভাবে কাফেররা হত্যা করেছে। রাসুলে করিম (সা.)-এর সাহাবায়ে কেরাম এমনকি মহিলা সাহাবীকেও অত্যন্ত নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হয়েছে। আল্লাহ অবশ্য ঐ সমস্ত শাহাদাতের বিনিময়ে সত্য বা ইসলামকে বিজয়ী করার কাজে ব্যবহার করেছেন। আমার ব্যাপারে আল্লাহ কী করবেন তা তো জানার উপায় নেই।
গতকাল ভারতের পররাষ্ট্র সচিব সুজাতা সিং এসে আওয়ামী লীগকে শুধু সাহসই দেন নাই, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে চাপও দিয়েছেন। এবং সতর্ক করার জন্য জামায়াত-শিবিরের ক্ষমতায় আসার ভয়ও দেখিয়েছেন। এতে বোঝা যায় যে জামায়াত এবং শিবিরভীতি এবং বিদ্বেষ ভারতের প্রতি রক্তকণায় কিভাবে সঞ্চারিত। আমি তো গোড়া থেকেই বলে আসছি, আমাদের বিরুদ্ধে সরকার যেসব পদক্ষেপ নিচ্ছে এটার সবটা ছকই ভারতের অঙ্কন করা। আওয়ামী লীগ চাইলে এখান থেকে পেছাতে পারবে না। কারণ তারা ভারতের কাছে আত্মসমর্পণের বিনিময়েই এবার ক্ষমতা পেয়েছে।
অনেকেই নীতি নৈতিকতার প্রশ্নে কথা বলেন, আমাকেসহ জামায়াতের সকলকে সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে যে কায়দায় জড়ানো হয়েছে এবং আমাদের দেশের প্রেসের প্রায় সবগুলোই সরকারকে অন্যায় কাজে সহযোগিতা করছে, তাতে সরকারের পক্ষে নীতি নৈতিকতার আর দরকার কি? বিচারকরাই স্বয়ং যেখানে জল্লাদের ভূমিকায় অত্যন্ত আগ্রহভরে নিরপরাধ মানুষকে হত্যার নেশায় মেতে উঠেছে তাতে স্বাভাবিক ন্যায় বিচারের আশা অন্তত এদের কাছ থেকে করা কোনোক্রমেই সমীচীন নয়। তবে একটি আফসোস যে, আমাদেরকে বিশেষ করে আমাকে যে সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেয়া হয়েছে, তা জাতির সামনে বলে যেতে পারলাম না। গণমাধ্যম বৈরী থাকায় এটা পুরোপুরি সম্ভবও নয়। তবে জাতি ও পৃথিবীর ন্যায়পন্থী মানুষ অবশ্যই জানবে এবং আমার মৃত্যু এই জালেম সরকারের পতনের কারণ হয়ে ইসলামী আন্দোলন অনেক দূর এগিয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।
কালই সুরা আত-তাওবার ১৭ থেকে ২৪ আয়াত আবার পড়লাম। ১৯নং আয়াতে পবিত্র কাবাঘরের খেদমত এবং হাজীদের পানি পান করানোর চাইতে মাল ও জান দিয়ে জেহাদকারীদের মর্যাদা অনেক বেশি বলা হয়েছে। অর্থাত্ স্বাভাবিক মৃত্যুর চাইতে অন্যায়ের বিরুদ্ধে আল্লাহর দেয়া ন্যায়ভিত্তিক ব্যবস্থা অর্থাত্ ইসলাম প্রতিষ্ঠার জেহাদে মৃত্যুবরণকারীদের আল্লাহর কাছে অতি উচ্চ মর্যাদার কথা আল্লাহ স্বয়ং উল্লেখ করেছেন। আল্লাহ নিজেই যদি আমাকে জান্নাতের মর্যাদার আসনে বসাতে চান তাহলে আমার এমন মৃত্যুকে আলিঙ্গন করার জন্য প্রস্তুত থাকা উচিত। কারণ, জালেমের হাতে অন্যায়ভাবে মৃত্যু তো জান্নাতের কনফার্ম টিকেট।
সম্ভবত ১৯৬৬ সালে মিসরের জালেম শাসক কর্নেল নাসের সাইয়্যেদ কুতুব, আবদুল কাদের আওদাসহ অনেককে ফাঁসি দিয়েছিল। ‘ইসলামী আন্দোলনের অগ্নিপরীক্ষা’ নামক বিষয়ে বিভিন্ন শিক্ষা শিবিরে বক্তব্য শুনেছি। একাধিক বক্তব্যে অধ্যাপক গোলাম আযম সাহেব বাম হাতটা গলার কাছে নিয়ে প্রায়ই বলতেন, ‘ওই রশি তো এই গলায়ও পড়তে পারে’। আমারও হাত কয়েকবার গলার কাছে গিয়েছে। এবার আল্লাহ যদি তার সিদ্ধান্ত আমার এবং ইসলামের অগ্রগতির সাথে সাথে জালেমের পতনের জন্য কার্যকর করেন, তাহলে ক্ষতি কি? শহীদের মর্যাদার কথা বলতে গিয়ে রাসুলে করিম (সা.) বারবার জীবিত হয়ে বারবার শহীদ হওয়ার কামনা ব্যক্ত করেছেন। যারা শহীদ হবেন, জান্নাতে গিয়ে তারাও আবার জীবন এবং শাহাদাত কামনা করবেন। আল্লাহর কথা সত্য, মুহাম্মাদ (সা.)-এর কথা সত্য। এ ব্যাপারে সন্দেহ করলে ঈমান থাকে না।
এরা যদি সিদ্ধান্ত কার্যকর করে ফেলে তাহলে ঢাকায় আমার জানাজার কোনো সুযোগ নাও দিতে পারে। যদি সম্ভব হয় তাহলে মহল্লার মসজিদে এবং বাড়িতে জানাজার ব্যবস্থা করবে। পদ্মার ওপারের জেলাগুলোর লোকেরা যদি জানাজায় শরিক হতে চান, তাহলে আমাদের বাড়ির এলাকায়ই যেন আসে। তাদেরকে অবশ্যই খবর দেয়া দরকার।
কবরের ব্যাপারে তো আগেই বলেছি আমার মায়ের পায়ের কাছে। কোনো জৌলুসপূর্ণ অনুষ্ঠান বা কবরের বাঁধানোর মতো বেদআত যেন না করা হয়। সাধ্যানুযায়ী ইয়াতিমখানায় কিছু দান খয়রাত করবে। ইসলামী আন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সাহায্য-সহযোগিতা করবে। বিশেষ করে আমার গ্রেফতার এবং রায়ের কারণে যারা শহীদ হয়েছেন, অভাবগ্রস্ত হলে ঐসব পরিবারকে সাহায্য সহযোগিতার ব্যাপারে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
হাসান মওদুদের পড়াশোনা এবং তা শেষ হলে অতি দ্রুত বিবাহ শাদির ব্যবস্থা করবে। নাজনীনের ব্যাপারেও একই কথা।
পেয়ারী, হে পেয়ারী,
তোমাদের এবং ছেলেমেয়ের অনেক হকই আদায় করতে পারিনি। আল্লাহর কাছে পুরস্কারের আশায় আমাকে মাফ করে দিও। তোমার জন্য বিশেষভাবে দোয়া করেছি যদি সন্তান-সন্ততি এবং আল্লাহর দ্বীনের জন্য প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলে আল্লাহ যেন আমার সাথে তোমার মিলিত হওয়ার ব্যবস্থা করেন। এখন তুমি দোয়া করো, যাতে দুনিয়ার সমস্ত মায়া-মহব্বত আল্লাহ আমার মন থেকে নিয়ে শুধু আল্লাহ এবং রাসুলে করিমের (সা)-এর মহব্বত দিয়ে আমার সমস্ত বুকটা ভরে দেন। ইনশাআল্লাহ, জান্নাতের সিঁড়িতে দেখা হবে।
সন্তানদেরকে সব সময় হালাল খাওয়ার পরামর্শ দিবে। ফরজ, ওয়াজিব, বিশেষ করে নামাজের ব্যাপারে বিশেষভাবে সকলেই যত্নবান হবে। আত্মীয়-স্বজনদেরকেও অনুরূপ পরামর্শ দেবে। আব্বা যদি ততদিন জীবিত থাকেন তাকে সান্ত্বনা দেবে।
তোমাদেরই প্রিয়
আবদুল কাদের মোল্লা
৫ ডিসেম্বর ২০১৩

[Page 1]

Bismillahir Rahmanir Raheem

Dearest life-partner Peyari,

Assalamu alikum wa rahmatullah.

After the full verdict has been published today, it is very likely that, tomorrow night or tomorrow after the order reaches the jail gate, I might be taken to the condemn cell. This is the rule.

Probably this is the last moment of the government. Hence, at the last moment they might proceed to hurriedly commit this heinous act. I suspect that they will not accept the review petition. Even if they accept it, there is no possibility, from the worldly point of view, to change their verdict. It is a different matter if Almighty Allah himself intervenes against the conspiracy of implementing this verdict. But, according to the eternal law, Allah does not do like that (intervene) all the time.

[Page 2]

The unbelievers killed unjustly even many of the prophets. Many honorable companions of the Holy Prophet (PBUH), even female companions, were murdered barbarically. In exchange of those martyrdoms, Allah has utilized those [sacrifices] in the way of making the truth and Islam victorious. There is no way to know what Allah might [ultimately] do in my case.

Yesterday, the foreign secretary of India not only encouraged the Awamileague, but also pressurized Hussain Muhammad Ershad. She even warned him about the possibility of Jamaat-Shibir coming into the power. This shows that the phobia and the hatred towards Jamaat-Shibir have spread within every blood-cells of India. I have been saying it from the beginning that,

[Page 3]

Whatever actions are being taken against us, all of these have been designed by India. The Awamileague cannot back away from it even if it wants to. Because this time they [the Awamileague] came into the power only by surrendering to India.

There are many people talking about principles and ethics. The way all of Jamaat including me were framed and the way almost all of the press in our country have assisted the government in its unjust actions, then what is the point of [talking about] principles and ethics by the government? While the judiciary/trial itself has taken the role of the hangman and has become intoxicated with a desire to kill innocent people, it is not right in any way to expect the natural fair trial and justice from them. I have only one regret- I am not able to explain it to the nation of the [unjust] way we, especially I, have been given the death penalty.

[Page 4]

It is not entirely possible as the whole media is hostile towards us. But the nation and the just people of the world will definitely know the [truth]; and my death will be a cause for the downfall of this oppressive regime; and the Islamic movement will advance a long way [because of this injustice], InshaAllah.

Yesterday I read again from verse 17 to verse 24 of Surah At Tawbah. In verse 19, it is mentioned that the fighting [jihad] in the cause of Allah with one’s life and wealth is far more superior in rewards than serving the house of Allah [Ka’ba] and giving drinks to the pilgrims. This means that, Allah himself mentioned about the far higher status near to Allah for those giving their lives in the cause of Allah [Jihad] in order to establish a just society of Islam, fighting against injustice, than those who die naturally. If Allah himself wants to place me in such a honorable position in Jannah/paradise then

[Page 5]

I should be ready to embrace such a death. Because dying unjustly in the hands of the oppressors is a ‘confirm ticket’ to the Jannah/paradise.

Probably in 1966, the tyrant ruler of Egypt, Colonel Nasser, put to death Saiyed Qutub, Dr Abdul Quader Awdah and many others. I have listened to many lectures titled such as ‘Trials/Tribulations in the way of Islamic Movement’. More than once after such lectures, Professor Ghulam Azam used to say by touching my shoulders with his left hand that, the rope of gallows might fall onto this shoulder too! My hands also went near to the shoulders [thinking about it]. If this time Allah truly implements his decision as a mean to advance the Islamic movement and [raise in honor] myself further, and as a cause for the downfall of the oppressive regime, then what is the loss in that? While speaking about the high status for the martyrs,

[Page 6]

the Holy Prophet [PBUH] expressed his desire to ‘come back to life repetitively in order to die as a martyr again and again’. Those who die as martyrs will also express their desire in the Jannah/paradise for coming back to life and die again as martyrs. The word of Allah is indeed the truth. The word of the Holy Prophet [PBUH] is indeed the truth. There is no Imaan/faith if one doubts in them.

If they [the government] do implement their decision [to hang me] then they may not allow for my funeral to take place in Dhaka. If possible then try to arrange for my funeral at my village mosque and my house. If the people living at the other side of the Padma [river] want to attend the funeral then they should come to the area near my house. They must be informed about that.

[Page 7]

I have already told you about the grave; it should be at my mother’s feet. There must not be any expensive/wasteful function or any innovative practices like walling the grave. Give donations to orphanage as much as possible. Take care of those families suffering losses while involved in the Islamic movement, especially those martyred during protests against my arrest and verdict. Give priorities to those families when suffering any hardships.

Arrange for the marriage of Hasan Moudud soon after finishing the studies. Same goes for Nazneen.

[Page 8]

Peyari, O Peyari,

I have not been able to fulfill many rights of you and of the children. Please forgive me with the intention of getting rewards from Allah. I pray especially for you that, Allah arrange for your meeting with me again soon after you will have completed your duties towards the children and the religion of Allah. Now you pray so that, Allah takes away all love, [feelings] and attractions for this world from my mind, and instead fill my whole heart only with the love for Allah and His Prophet (PBUH).

InshaAllah, see you again on the steps of Jannah/paradise.

Always advise the children for lawful earnings. All of you be careful about the Fard and Wajib duties, especially about the prayers. Give same counsel to the relatives as well. Give condolence/comfort to my father if he is still alive until then.

Translated by Brother Saqib Helal

শহিদের স্ত্রীর(আব্দুল কাদের মোল্লা ভাবী)পাশে কিছুক্ষন সময় কাটালামঃ

“শারমিন এদের বাপ ছেলের মনের ব্যাথা বেশি হলে এমন মুডঅফ হয়ে যায়। তুমি আম্মু, তাতে কিছু মনে করো না ঠিক হয়ে যাবে ইনশাল্লাহ।ট্রাইবুনালের নিরাপরাধী আসামীদের পক্ষের সব আইনজীবিদের মনের অবস্থ্যাই এখন খারাপ”।

আমার হাস্যুজ্জোল রসিক সাহেব আর বন্ধুর মত ছেলে গুলো মনে হয় হাসি ভু্লেই গেল। তাই আমার মামনি (ছেলের বউ)টাকে উপরের কথা বললাম।আমি আবার কারো এই রকম অবস্থ্যা দেখলে ভাল লাগে না তাই তার সাথে কথা বলে তাকে হালকা করতে গিয়ে অনেকর বকাও শুনেছি।আল্লাহ মাফ করেন ।কিছু দিন থেকে এখন দেখি এইটা ভাইরাসের মত আমারকেও এরেস্ট করতে চায়।নিরোপরাধী দ্বীনি ভাইদের একটা রায় হয় আর মনে হয় আমাদের বাকীদের সচেতন বিবেক গুলি মানুষিক জুলুমের স্বীকার হয়ে ক্ষতবিক্ষত হয়ে কাতরাতে থাকে। মোল্লা ভাই শহিদ হলো আর আমার মাথার আর বুকের পেইন ননস্টোপ এত বেশি হচ্ছিল যে মনে হলো আমি মনে হয় আবার ব্রেইন স্ট্রোক করে ফেলছি কারন হাত পা এমনকি মন প্যারালাইস্ট হওয়ার মত কোন জোর পাচ্ছিলাম না।শরীলের এই জড়পদার্থ অবস্থ্যাকে প্রশ্রয় না দিয়ে এর অবসান করার জন্য আজ এক দ্বীনি বোনকে ফোন দিয়ে বললাম “আপা আমি পেয়ারী আপাকে দেখতে যাবো, আপনি আমার সাথে যাবেন?” আপা আমার মনের ব্যগতিক অবস্থ্যা বুঝে রাজি হয়ে গেলেন।

যাওয়ার পথে জায়গায় জায়গায় কিছু পশু দেখলাম,যারা সন্ত্রাসী পোষাকের উপর RAB কটি পরে বড় বড় লাঠি হাতে জায়গায় দাড়ানো।আমরা তাতে আলহামদুলিল্লাহ মোটেও বিচলিত হলাম না।আল্লাহ আমাদের স্বসন্মানের সাথে মোল্লা ভাইয়ের বাসায় পৌছালেন আর বাসার ভিতরে ডুকতেই ভাবলাম ভুল কোন বাসার চলে আসলাম কিনা।কারন অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে মৃত ব্যক্তিদের পরিবারের যেই রকম অবস্থ্যা দেখে এসেছি তেমন দেখব বলে ব্যাকুল হয়ে গিয়েছিলাম ।সুবহানাল্লাহ সেই রকম কিছু বিন্দু পরিমানও ফেলাম না। ছেলে মেয়েরা সবাই সবার স্বাভাবিক কাজকর্ম করে যাচ্ছে।আপার রুমে গিয়ে আপার সামনে বসে আপার চেহারার দিকে তাকায়ে ভাবলাম,যেই ব্যক্তির জন্য দেশে বিদেশে বাংলাদেশি আর বিদেশী সকল কোরানের সৈনিকদের অশ্রু আর বুকের মাঝে ব্যাথার জগদ্ধল পাথর চাপা দিয়ে দীর্ঘ শ্বাস প্রশ্বাস ফেলে ফেলে কাহিল হয় যাচ্ছেন।সেখানে সেই বাড়ির সবাইকে দেখি বুকের হাজার টন ওজনের ব্যাথা বুকের মাঝে কবর দিয়ে ফেলেছেন সন্মানিত শহিদের মতই ঝটপট।আল্লাহর কাছে নিয়ে যাওয়া প্রিয় প্রশান্ত আত্মার সাথে ওনার পরিবার আল্লাহর ভালবাসা ধৈর্য্যশীলদের সাথে তার বাস্তব উদাহরন হয়ে প্রশান্তিতে আছেন।এই অবস্থ্যা দেখে আমার নফসের অস্থির শয়তানের গালে এক থাপ্পড় পড়ল মনে হলো।কারন আমার বিবেক সেই রকম ভাবেই নড়াচড়া য়ে উঠল।

আমার পেয়ারী আপা(শহিদ আব্দুল কাদের মোল্লা ভাবী)আমাকে আগের মতই বুকে জড়ায়ে নিলেন।আমি আমার কলিজার টুকরা বোনের বুকের সাথে বুক মিলিয়ে আমার চঞ্চল অস্থির হৃদয় কি যে এক অমৃতসুধা পান করার মত জান্নাতী সুখ লাভ করেছি। তা আমি আমার ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র জ্ঞান আর এই আকাবাকা কালো বাংলা অক্ষর দিয়ে সিরাতুল মোস্তাকিমের পথে চলা একজন শহিদের স্ত্রী থেকে পাওয়া অনাবিল শান্তি আর আদর্শ আপনাদের সাথে শেয়ার করতে পারলাম না বলে ক্ষমা করবেন।তবে আমার হৃদয় থেকে বোবা পাহাড়ের ঝর্নার মতো অনবরত বয়ে যাওয়া কান্না থেমে গেল তবুও কেন জানি না এখনো অশ্রু ভরা দু’নয়ন?

শহিদ আব্দুল কাদের মোল্লা ভাই সহ সারা বিশ্বের দ্বীন কায়েমের চেষ্টায় শাহাদাত প্রাপ্ত্য ভাইয়েরা আমার রক্তের সম্পর্কের কেউ নন এক একজন ভাইয়ের শহিদ হবার খবর কানের আসলে কলিজায় গিয়ে তীরের মত আঘাত করে যে পেইন শুরু হয় তখন মনে হয় না আমার আপন রক্তের ভাইয়ের চেয়েও ওনারা আত্মার সাথে সম্পর্ক যুক্ত।শুধু আল্লাহর বান্দা ও ও রাসুল সাঃ এর গুনাগার উম্মত তাও আল্লাহর আরেক মুমিন বান্দার প্রতি জালিম সরকারের অন্যায় রায় কার্যকর করা দেখে আবেগাক্রান্ত হয়ে পড়ি. ।অবাক হয়ে যাবেন আর দশটা বিধবার মত কেন জানি বর্ণনাহীন আবেগ আপাকে আপ্লুত করতে পারেনি। কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে ঈমানী এলেমী ও আমোলী যোগ্যতা অনেক বেশি আল্লাহ মোল্লা ভাই ও ওনার পরিবার কে দান করেছেন ।তার বাস্তব উদাহরন শুধু আমি নয় কাশিমপুর কারাগারের অনেক আসামী ,জেলেরকর্মচারীরা ও দ্বীনি ভাইবোনেরা অশ্রুসিক্ত নয়নে অবলোকন করেছেন। মানুষের ন্যুনতম মৌলিক অধিকার যা একজন স্বামী বা বাবা মারা গেলে একজন বিধবা স্ত্রী বা সেই পরিবারের সবাই পেয়ে থাকে । যেটা আমাদের সামাজিক ভাবে স্বীকৃত জানাজা, শোকে কান্নাকাটি বা অন্যদেরকে সমবেদনা জানাতে আসতে দেওয়া তার কোনো সুযোগ এই পরিবার কে দেওয়া হয়নি দেয়া হয়নি ।বরং লাস উনারদের কাউকে হস্তান্তর না করে উনাকে গ্রামে নিয়ে যায় কিন্তু পরিবারকে যাবার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করে আরো উলটা তাদের কে পুলিশ ও আওয়ামী গুন্ডারা মেরে আহত করে ফেলে।.কারণ মোল্লা ভাই নাকি কসাই কাদের তাই ” যুদ্ধাপরাধী”. বিচারে তিনি দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন।তাই ফাসি দেওয়ার কিছুক্ষন এর মধ্যে কান্নার শান্তনার পরিবর্তে আরো সন্ত্রাসী হামলার স্বীকার হয়ে আর লাসটাও দেখতে পারেন নাই ।কত নিষ্টুর পৃথিবী।

আপার সামনে গিয়ে আমার মত আবেগ আক্রান্ত আরো অনেক আমার সন্মানিতা দ্বীনি বোনদের কে ফেলাম।আর আমার পেয়ারী আপার কে পেলাম ধৈর্য্যর পিরামিড হিসাবে তবে মাঝে ভাইয়ের অনেক আনন্দঘন মুহুর্তের স্মৃতিচারন করতে গিয়ে সেই আগের হাস্যুজ্জোল চেহারা।আমি বার বার আপার কোরান সুন্নাহর আদর্শে মিশ্রিত দীপ্তমান ঈমানী জযবার বৃদ্ধিকারী মধুরবানী শুনছিলাম।যা আমাদের দেহ মনে ইসলাম কায়েমের জন্য ইসলামের বিপ্লবী দাওয়াত,ইসলামী বিপ্লবের উপযোগী ব্যক্তি গঠন করে তাকওয়া ভিত্তিক এমন নেতৃত্ব সৃষ্টি করে যারা জান মাল এর কোরবানী দিতে বিন্দুমাত্র কুন্ঠিত হন না।এখনো আমরা সেই শিক্ষার আলোকে আমাদের কে ময়দানে আরো বেশি প্রান চঞ্চল থাকার মাধ্যমে ইসলাম কায়েম করেই এই হত্যার প্রতিশোধ নিতে হবে।তখন বার বার ামার অবচেতন মন গুমড়ে গুমড়ে কেদে বলছিল, “হে আল্লাহ আপনি ছাড়া কারো শক্তি নেই আমাদের কে দুখকষ্ট ও দুনিয়াবী আসমানী বিপদ আপদ থেকে বাচাবার এবং আপনি ছাড়া কারো ক্ষমতা নেই আমাদেরকে সুখ সম্পদ প্রাদান করার।

মেয়েদের মুখে বাবার স্মৃতিচারনঃ

পেয়ারী আপার মেয়েদের কে দেখে বার বার চোখে পানি আসছিল কারন আমি বাবা দেখি নাই। বাবার আদর কেমন হয় তা আমি তাদের মুখে মোল্লা ভাইর অতি আদরের বিভিন্ন সময়ের স্মৃতিচারন শুনে বার বার আমার কাছে মামনিদের কে বাংলাদেশের সব চেয়ে গর্বিত সন্তান বলে মনে হয়েছে।জেল খানায় বাবার সাথে কাটানো সময় বা শাহাদাতের দ্বার প্রান্তে যাওয়া তাদের বাবাকে কত কষ্টে এই জালিম সরকার রেখেছেন এই কথা স্মরন করতে গিয়ে অনেক কষ্টকে গলাচিপে ধরে রাখার মাঝেও শারমিনের চোখের পানির ফোটা গুলি আমার কাছে মনে হয়েছে জালিম সরকারের পতনের জন্য এটোমবোমা হিসাবে কাজ করবে ইনশাল্লাহ।সে বলল তার আব্বু সব সময় বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতের মৃত্য পছন্দ করতেন ।তার মতে তার আব্বুর কোন ইচ্ছা আল্লাহ অপুরন রাখেন নাই। বড় মেয়ে পারভীন তার বাবাকে জিজ্ঞাসা করে “আব্বু, ১৬ইডিসেম্বর তোমার জন্য কি রান্না করে আনব?বাবা আদরের মেয়েকে বুকের ব্যথা বুকে লুকায়ে হাসিমুখে জিজ্ঞাসা করল, সেই দিনও রান্না করে আনবে?”

স্ত্রীর মুখে স্বামীর সুনাম?

আপার মুখে শুনা মোল্লা ভাইর অনেক ভাল গুন শুনলাম, আমার মতে যা সব মুমিন মুমেনার থাকা উচিত।যেমন, তিনি খুব অল্প সময়ে মানুষের মন জয় করে ফেলতে পারতেন।সব সময় নিজের সব কিছু নিজেই গুছিয়ে টিপ টপ রাখতেন ।যা অনেক পুরুষ মা বোন বা ্বউ করে দিবেন বলে ফেলে রাখেন।তাই আপা বললেন ,তিনি কখন মোল্লা ভাইয়ের জন্য চিন্তিত ছিলেন না।যখন আল্লাহ যেখানে যেই অবস্থ্যায় রাখতেন তাতেই নিজেকে সুন্দর ভাবে মানিয়ে নিতেন।তাই যখন ফাসির রায় হয় এরপর খুবই ছোট এবড়োথেবড়ো মেঝে টিন সেটের আলো বাতাস ছাড়া একটা রুমেও থাকতে কোন আপুত্তি করে নাই।সব সময় ধৈর্য্যশীল ছিলেন।করলা মানে উস্তা বাজি ,ঘন ডাল আর সবজ্বি ছিল উনার প্রিয় খাবার। ছোট বাচ্ছাদের আল্লাহর রাসুলের কথা মনে করে খুব আদর করতেন। ভাইয়ের আরো কত স্মৃতি চারন করলেন। আপা আশাবাদী ইনশাল্লাহ জান্নাতে ভাইয়ের সাথে দেখা হবে ।

একজন শহিদের স্ত্রীর কিছু মুল্যবান কথাঃ

আমাদের মাঝে আল্লাহর সাথে ভালবাসার দুরুত্ব কমে গেছে।তাই আমরা অনেকে ইসলামকে শুধু বক্তৃতা, সেমিনার আর মিডিয়া নেটে শুধু ব্যবহার করছি।এই স্বৈরাচার সরকারের জুলুম থেকে ইসলাম আর মজলুমদের রক্ষা করার ইসলামী আন্দোলন কে বেগবান করে কোরানের বিধান(দ্বীন)প্রতিষ্ঠা করার মাধ্যমে আল্লাহর সাথে আমাদের সম্পর্ক আরো মজবুত করতে হবে।ইসলাম প্রতিষ্টা চেষ্টা সর্বশক্তি দিয়ে অব্যাহত রেখে এই সবুজ বাংলার বুকের লাল বৃত্তের সাথে সব শহিদদের রক্তে ভিজা মাটিতে ইসলামের বীজ বপন করে একটা সোনালী সমাজ কায়েম করে এই নাস্তিক জালেমদের ধ্বংস করতে হবে।মোল্লা ভাই আপাকে বলেছিলেন, হাসিনার বাবা বাকশাল কায়েম করে কি অপকর্ম করেছিলেন এই নতুন প্রজন্ম তা দেখে নাই, এখন সেইটা আবার এই সরকার মনে করিয়ে দিচ্ছেন। ইসলাম কায়েম করতে গিয়ে আল্লাহর হুকুমে যা হবার তা হবেই কিন্তু আমাদের কে তা ধৈর্য্য ও সাহসিকতার সাথে তা মুকাবিলা করতে হবে।কোন ক্রমেই সাহস ধৈর্য্য বা হতাশ হয়া যাবে না।ময়দানে হিকমতের সাথে আমাদের ঠিকে থাকার জন্য প্রানপন লড়তে হবে। আওয়ামীগের আমাদের যত ভাই বোন বা আত্মীয় স্বজন বন্ধু বান্ধব যতই আপন হোক না কেন এদেরকে বয়কট করে এদের সাথে আমাদের সম্পর্ক এর দুরুত্ব থাকতে হবে।আর আমাদের দ্বীনি ভাই বোন দের মাঝে পারস্পরিক সম্প্ররক মজবুত করতে হবে। আমরা একে অন্যের সব চেয়ে বেশি আপন।

বিদায়ের মুহুর্তঃ

মাঝে ঘড়িটার উপর বড্ড অভিমান আসে।মন চায় কাটাগুলোকে খুলে পানিতে চুবায়ে ধরি্। কারো একটু শান্তি দেখলে সে হিংসার আগুনে পুড়ে লাগাম ছাড়া পাগলা ঘোড়ার মত দৌড়াতে থাকে ।আর কারো কোন অশান্তি বা কষ্ট দেখলে সেই সময় কচ্ছপ গতিতে হাটে।আজ কোন ফাকে দিয়ে ৩ ঘন্টা চলে গেলো একটু টেরও ফেলাম না।আপা ,দুরের থেকে আসা সব দ্বীনি বোনদের বিকালের গল্ডাগলের আগে বাসায় ফিরেতে বললেন ।তাই বাসায় আসার জন্য রওনা দিতে চাইলাম আর পা ফেরাগের মত আটকে রইল।তাও ৩বার উঠলাম আবার বসে গেলাম।এরপর ধৈর্য্যধরে এইবার বিদায় নিতে আবার আপার একদম কাছে যেতেই এতো ব্যস্ততা আর ক্ষতবিক্ষত মনের মাঝেও আমার সাহেবের,ছেলেদের ও ছেলেরা আন্দোলনে কে কি অবস্থ্যায় আছেন।আজ আপার মনে আছে আমার থানার ইসলামের ভিত্তিস্থাপন করে দীর্ঘ সময় যে আমাকে নিয়ে এলাকার পরিচর্যার করেছেন সেই কথা সব আপার সামনে তুলে ধরলেন।ইউনিট এর সংখ্যা ও বোনদের আর্থিক করবানির কথা শুনে অনেক খুশি হয়ে বললেন, সব কথার আগে এই কথাটা শুনাতেন।অনেক শান্তি পেলেন। বিদায়ের সময় আপার মায়ার বাধন থেকে জোর করে মন টা আনতে চেষ্টা করতে গিয়ে আমি আর আমাকে ধরে রাখতে পারলাম না ।আপা আমার মনের অবস্থ্যা বুঝে আমাকে বুকে আবার ঝড়ায়ে নিলেন,আর বললেন, মোল্লা ভাই উনার আমল নিয়ে চলে গেছেন আল্লাহর কাছে এখন আমরা কি নিয়ে যাব? তাই কোরান সুন্নাহর আলোকে আল্লাহর সাথে আমাদের সম্পর্ক মজবুত করার

মাধ্যমে আমল বাড়াতে হবে। আমাদের সবার ভালবাসার থেকে আল্লাহ রহমানুর রাহিম আপনাদের মোল্লা ভাইকে অধিক ভালবেসেছেন তাই আল্লাহ উনাকে প্রশান্ত আত্তাদের মাঝে উনাকে নিয়ে গেছেন।যার স্বপ্ন উনি সব সময় দেখতেন”

এপার্ট্মেন্টের গেটে এসে দেখি ৪ জন পুলিশ ধারানো। আমার রিক্সা তাই গেটে থামতে দিলো না।দুরেই নেমে গেলাম ।কারন না জিজ্ঞাসা করেই ডূকে গেলাম।আল্লাহ লিফটের সামনে দেখি লিফটের জন্য অপেক্ষা করছেন ৪ তলার বিচারপতি ভাই।আমার ঘৃনা ও ক্ষোপ থেকে কথা বলতে ইচ্ছা হলো না। ২০ সেকেন্ডের মধ্যে উনি বললেন ভাবী কেমন আছেন ?মনে হলো হাতের কাছে পেয়ে কিছু না বললে আমার জীবিত শহিদ ভাইয়ের আত্তা কি বলবেন ।তাই বলা শুরু করলাম ।ভাই আপনারা বিচারপ্রতিরা যেই অবিচার রায় কার্যকর করলেন আর আপনাদের সরকার যে ভাবে পাখির মত মানুষ মারার লাইসেন্স দিলো তাতে কেউ কি সুস্থ্য থাকতে পারে? আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের মহা বিচারের দিনে কি জবাব দিবেন?নির্দোষ যেনেও এই রায় কিভাবে দিলেন?তিনি বললেন এটা অযোগ্যতা বা সীমাবদ্ধতা আছে সব আমরা ইচ্ছা করলেও করতে পারি না। আল্লাহ যখন সব স্ত্য দিবা লোকের মত বের করে দেখাবেন তখন বিশ্ববাসী এই রায় এর জন্য আগামী প্রজন্মের পর প্রজন্ম এর কাছে কি জবাব দিবেন। . ামি সাহসিকতা ও দৃঢ়তার সাথে নামার সময় বললাম ভাই , ইতিহাসে মিথ্যা কখনো লুকায়ে থাকে না ।চিরকাল সত্য জয় লাভ করেছে ,আজ নির্দোষ কাদের মোল্লাকে ফাঁসিকাষ্ঠে ঝুলিয়ে আপনারা বিজয়ীর হাসি হাসছেন, কাল কেয়ামতের ময়দানে মোল্লা হাসবেন ,আর আপনারা কাদবেন।

আব্দুল কাদের মোল্লা ভাঈ এড় শেষ কথা ,

আমি আগেই বলেছি জন্ম মৃত্যুর মালিক আল্লাহ, অন্য কেউ নন। তার প্রমাণ তেমরা পেয়েছোতো। আজও আমি আশা করি আল্লাহ তাইলে পৃথিবীর কোনো শক্তিই আমাকে মারতে পারবে না। তিনি বলেন, আমার মৃত্যু যদি হয় তা হবে এই সরকারের মনো বৃত্তির কারণে। আব্দুল কাদের মোল্লা বলেন, আমি ইসলামের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করতে যাচ্ছি। আমি কারো কাছে ক্ষমা প্রর্থণা করব না। আমার জীবন, মৃত্যুর মালিক মহান আল্লাহ, তিনি যে সিদ্ধান্ত আমরা জন্য করবেন তাই উত্তম। আর তা আমি প্রাণ পণে পালন করব।তিনি বলেন, আমি শহীদ হলে তোমরা হবে শহীদের বংশধর। আর আল্লাহ তোমাদের সব সময় সরাসরি সাহায্য করবেন। আমি আখিরাতে, আর তোমরা পৃথিবী সম্মান পাবে। তোমরা দেশের সব লোককে বলবে যেন আমার শহীদী মরণের আল্লাহ যেন কবুল করবে তার জন্য দোয়া করতে। আল্লাহ মোল্লা ভাই সহ সকল ভাইকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করুন ,আমিন ।

সংবাদ সম্মেলনে কাদের মোল্লার পরিবার

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লার পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছেন, অসমর্থিত ও অনির্ভরযোগ্য একমাত্র সাক্ষীর সাক্ষ্যের ভিত্তিতে কাদের মোল্লাকে আপিল বিভাগ মৃত্যুদণ্ডদেশ দিয়েছেন। অথচ ওই সাক্ষী মোমেনা বেগম আদৌ আদালতে সাক্ষ্য দিতে আসেননি

ক্যামেরা ট্রায়ালের সুযোগে রাষ্ট্রপক্ষ ভুয়া মহিলাকে মোমেনা বেগম সাজিয়ে আদালতে বক্তব্য দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পরে সংগৃহীত ছবি সংগ্রহ করে আইনজীবীর মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া গেছে সাক্ষী মোমেনা আর প্রকৃত মোমেনা এক ছিলেন না।

আজ সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় সুপ্রিমকোর্ট বার ভবনের অডিটরিয়ামে এক সংবাদ সম্মেলনে কাদের মোল্লার স্ত্রী জাহানারা বেগম এ অভিযোগ করেন। এ সময় তাদের ছেলে ও মেয়েসহ পরিবারের অন্য সদস্য এবং আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।

জাহানারা বেগম বলেন, গত ৪০ বছরে কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে দেশের কোথাও একটি অভিযোগ দায়ের হয়নি। অথচ কথিত মোমেনা বেগম নামে এক মহিলাকে দিয়ে তাকে (কাদের মোল্লা) ভয়ানক খুনী বানানো হয়েছে। আমরা মনে করি এটি নজিরবিহীন একটি ভুল রায়।

কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ নিরপেক্ষ তদন্ত সংস্থার মাধ্যমে তদন্ত করে মামলার সঠিক ও পুনর্বিচার দাবি জানান তিনি।

সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে কাদের মোল্লার ছেলে হাসান জামিল বলেন, উপমহাদেশের ইতিহাসে বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ড না দেয়া স্বত্ত্বেও সুপ্রিম কোর্টের মৃত্যুদণ্ড দেয়ার এটাই একমাত্র ঘটনা। এখন সংবিধান অনুসারে তার আপিল রিভিউ করার অধিকার রয়েছে। যেহেতু একজন বিচারপতি মৃত্যুদণ্ড দেয়ার বিরোধিতা করেছেন, তাই রিভিউ করা খুব গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু আমরা জানতে পেরেছি সরকার তড়িঘড়ি করে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা করছে। রিভিউ করার অধিকার না দিয়ে এবং জেল কোডের বিধান অনুসরণ না করে দ্রুত ফাঁসি দেয়ার যে চেষ্টা চলছে তা সর্বজনীন মানবাধিকারের পরিপন্থী। আপিল রিভিউর সুযোগ পেলে সুপ্রিম কোর্টে এ বিষয়গুলো তুলে ধরার মাধ্যমে কাদের মোল্লার মৃত্যুদণ্ডের রায় পাল্টে দেয়া সম্ভব।

নয়া দিগন্ত অনলাইন

৯ ডিসেম্বর ২০১৩, সোমবার, ৩:০৭

শহীদ আবদুল কাদের মোল্লা সাহেবের আদরের তনয়ার চিঠি…।

আব্বু,
সালাম আপনাকে। কেমন আছেন?
সবাই বলছে আপনি নেই! কিন্তু আমার বিশ্বাস হয় না। মনে হয় এখন
এসে বলবেনঃ “শারু আম্মু” চা দাও তো.., বলবেনঃ আমার
মেয়েরা কই? আর আম্মু বলবেঃ মেয়ে যেন আর কারো নেই!!

অথবা বলবে, আব্বা জানি আমাদের ছিলনা!!!…
আপনার সাথে শেষ দেখার আগের দিন
সাক্ষাতে আমি বলেছিলামঃ আপনাকে গাজী হিসেবে দেখতে চাই।
তারপর যখন নিউজ আসলো, ১০টা পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। তখন
ভাবলাম আমার দোয়া কবুল হয়েছে। কিন্তু না, আপনিই জয়ী হলেন।
স্বার্থপরের মতো আমি আপনাকে আমাদের আব্বু
বানিয়ে রাখতে চেয়েছিলাম। কিন্তু এখন দেখি আল্লাহ
আপনাকে এমন মর্যাদা দিলেন… যা আমরা কল্পনাও করিনি।
আজকে মনে হচ্ছে,
শহীদ আবদুল কাদের মোল্লা শুধু আমাদের asset না, সারা পৃথিবীর
ইসলামী আন্দোলনের অমূল্য সম্পদ। আমরা গর্বিত সন্তান।
আপনি ভাল থাকেন আল্লাহর আরশের ছায়ায়। জান্নাতের
পাখি হয়ে।

দোয়া করেন, যেন খুব তারাতারি দেখা হয় জান্নাতে। কারনটাও
স্বার্থপরের মতো বলছি, আমরা আপনার সান্নিধ্য চাই। আমি আমার
বাবার বুকে মাথা রাখতে চাই। আমার আব্বুর শরীরের সুবাস
নিতে চাই। সেই সুবাস অনুভব করি।

সবাই বাসায় এসে যখন বলেঃ তোমরা কতো ভাগ্যবান!! তখন
সান্তনা পাই। কিন্তু তারপরও মেয়ের মন তো মানেনা…
আমাদের দোয়া করেন, যেন সবর করতে পারি।

আপনার শারু মনি
…………………

আমাতুল্লাহ শারমিন

Basherkella Satkania Lohagara
সেদিন কোরআন ছুয়ে কাদের মোল্লা বললেন, আমি কসাই কাদের না
……………………………
আজ ১৩ই ডিসেম্বর ২০১৩. রাত ১০টা। আজ থেকে মাস দেড়েক আগের ঘটনা। তারিখটা ঠিক মনে নেই। একদিন সন্ধ্যার পরে কোথাও এক জায়গায় বসে কয়েকজন চা খাচ্ছিলাম আর আড্ডা দিচ্ছিলাম। কথা হচ্ছিল দেশের সমসাময়িক নানা বিষয় নিয়ে। ওই সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী ব্যারিস্টার মুন্সি আহসান কবীর। আলোচনাক্রমে আসে জামায়াত নেতা আব্দুল কাদের মোল্লার মৃত্যুদণ্ডের রায়ের প্রসঙ্গটি ।

ব্যারিস্টার আহসান কবীর এ সময় বলেন, কিছুদিন আগে তিনি জেলগেটে দেখা করতে গিয়েছিলেন আব্দুল কাদের মোল্লার সাথে। ওই সময় মোল্লার হাতে ছিল একটি ছোট্ট কোরআন শরীফ। কাদের মোল্লা কোরআন শরীফটি দেখিয়ে বললেন, মুন্সি আমার হাতে এটা কী? ব্যারিস্টার আহসান কবীর বললেন, এটা তো কোরআন শরীফ।

ওই কোরআন শরীফটি হাতে উচু করে কাদের মোল্লা তখন বললেন, মুন্সি হয়তো আমার ফাঁসি হয়ে যাবে। কিন্তু আজ এই কোরআন শরীফ হাতে নিয়ে আমি আল্লাহর নামে শপথ করে বলছি, ১৯৭১ সালে মিরপুরে কসাই কাদের কর্তৃক যেইসব হত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য আমাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হলো তার একটি অপরাধের সাথেও আমার দূরতম কোন সম্পর্ক নেই। কাদের মোল্লা বলেন, আল্লাহর নামে শপথ করে বলছি আমি ১৯৭৩ সালের আগে কোনদিন মিরপুরেই যাইনি।

সেইদিনের আব্দুল কাদের মোল্লার সেই কোরআন নিয়ে শপথের কোন আইনী মূল্য ছিল না। কারণ একদিকে চলছে প্রহসনের বিচার। আর অন্যদিকে চলছে ইসলামী আন্দোলনের সাথে জড়িত লোকদের সম্পর্কে দেশের সাধারণ মানুষকে ভুল বোঝানোর মহোৎসব। নিজেদেরকে প্রগতিশীল বলে পরিচয়দানকারী কিছু চরিত্রহীন,লম্পট গণমাধ্যমকর্মী মরিয়া হয়ে এমন অপপ্রচারে নামেন যাতে ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন ও এই আন্দোলনের শীর্ষ নেতাদের থেকে দেশের সাধারণ মানুষ মুখ ফিরিয়ে নেয়।

যাই হোক, কাদের মোল্লার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হলো। কেনই যেন বার বার মুন্সি আহসান কবীরের সাথে সেদিনেরই সেই আড্ডার স্মৃতি বার বার মনে ভেসে উঠছে। বার বার সচেতন মন বলছে, সত্যিই একজন সদা হাস্যজ্জল, সাদাসিদে কাদের মোল্লা, যার নিস্পাপ চেহারাই বলে দেয় তিনি কোন অপরাধের সাথে জড়িত থাকতে পারেন না। মিরপুরের কুখ্যাত ডাকাত বিহারী কসাই কাদেরের সমস্ত অপরাধ জেনে বুঝে ঠান্ডা মাথায় কাদের মোল্লার ঘাড়ে চাপিয়ে দিল কতিপয় জ্ঞানপাপী। এ যেন সিনেমাকেও হার মানালো।

মন শুধু একটি কথাই বলছে, ইতিহাসে মিথ্যা কখনো চিরকাল সত্য হয়ে থাকে না। আজ যারা জেনে বুঝে নির্দোষ কাদের মোল্লাকে ফাঁসিকাষ্ঠে ঝুলিয়ে বিজয়ীর হাসি হাসছেন, তারাই একদিন জাতির কাছে কলংকিত প্রমানিত হবেন। তাদের আসল চরিত্র জাতির কাছে একদিন উন্মোচিত হবেই। আর কাল কেয়ামতের ময়দানে মোল্লার হাসি আর আজকের হট্টহাসিতে নিমজ্জিত মোল্লার খুনিদের কান্নার দৃশ্য যেন আমি দেখতে পাচ্ছি। সেইদিনের অপেক্ষায় থাকলাম।

লেখকঃ সাংবাদিক

শহীদ আব্দুল কাদের মোল্লার নির্মম হত্যাকাণ্ডে আমরা শোকাহত পর্ব-১ ============================== -ইঞ্জিঃ আবুল হোসেন রহমতুল্লাহ আজ ১২ ডিসেম্বর, ২০১৩ সাল, ইতিহাসের পাতায় নতুন করে যোগ হল কলঙ্কময় আর একটি কাল রাত। তথাকথিত মানবতা বিরোধী অপরাধের বিচারের নামে পৃথিবীর সবচেয়ে জঘনতম মানবতা বিরোধী অপরাধ সংঘটিত হল এ রাতে। মীরপুরের অবাঙ্গালী বিহারী কুখ্যাত খুনী রাজাকার কাদের কসাই যে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর বিক্ষুব্দ জনতার গনধোলাই আক্রমনে নিহত হয় সেই মৃত কাদের কসাইকে কাল্পনিক পুনর্জন্ম দিয়ে ফরিদপুরের কৃতি সন্তান, ইসলামের জন্য জীবন উৎসর্গকারী মহৎ চরিত্রর অধিকারী, মেধাবী শিক্ষাবিদ ও সাংবদিক, আব্দুল কাদের মোল্লাকে কাল্পনিক কাদের কসাই সাজিয়ে ভুঞা সাক্ষীদের দিয়ে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়ে বিদেশী প্রভু ও যালিম শাসকের নির্দেশে প্রহসনের বিচারের রায়ে হত্যা করা হয়। শুধু তাই নয়, নজির বিহিনভাবে জেল কোডও লংঘন করা হয়েছে। রায় পাওয়ার পর নির্দিষ্ট সময় সীমা শেষ হওয়ার আগেই তড়িঘড়ি করে ফাঁসি দিয়ে হত্যা করা হয়। এতকাল দেখে এসেছি সাধারনত গভীর রাত ১২টা ১ মিনিটে ফাঁসি কার্যকর করা হয় এবং ভোরবেলা পরিবার ও স্বজনদের কাছে মৃতদেহ হস্তান্তর করা হয়, অথচ আজই তার ব্যতিক্রম ঘটিয়ে গভীর রাত হওয়ার অনেক আগেই ১০টা ১ মিনিটে ফাঁসি দিয়ে হত্যা করা হয় এবং পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে না করে কড়া পুলিশ, রাব ও বিজিবির নিরাপত্তা পাহাড়ায় ফরিদপুর জেলায় তাঁর গ্রামের বাড়ীতে নিয়ে গিয়ে গভীর রাতের অন্ধকারে দাফন করতে বাধ্য করে। এমন কি তাঁর স্ত্রী ও সন্তানদেরকেও জানযায় অংশগ্রহন করার সুযোগ দেওয়া হয় নাই। রাতে তাঁর স্ত্রী ও সন্তানরা যাতে গ্রামের বাড়ীতে যেতে না পারে এ উদ্দেশ্যে তাঁর বাড়ীতে হামলা চালানো হয়। এত প্রতিবন্ধকতার মাঝেও গভীর রাতে অন্ধকার ও তীব্র ঠাণ্ডার মধ্যে হাজার হাজার জনতা জানাযায় অংশগ্রহন করে। এ তো সবচেয়ে বড় অবিচারে এবং চরম মানবতাবিরোধী অপরাধ। আর তাই আজ বাংলাদেশ সহ সারা দুনিয়ার সমস্ত মুসলিম ভাইবোনরা গভীরভাবে শোকাহত। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজেঊন। আল্লাহর পথে শাহাদাতের তীব্র আকাঙ্খায় সব ধরণের প্রস্তুতি গ্রহণ করে, হাসিমুখে আল্লাহর দরবারে চলে গেলেন আমাদের প্রিয় নেতা, জনগণের প্রিয় আব্দুল কাদের মোল্লা ভাই। দীর্ঘ দিনের লালিত স্বপ্ন পূরণ করে তিনি এখন তার মালিকের সান্নিধ্যে। মৃত্যু ভয়ে একটুও বিচলিত না হয়ে মুমিনের সর্বোত্তম মর্যাদা ও সর্বোচ্চ সৌভাগ্য শাহাদত প্রাপ্তিরর আশায় হাসি মুখে তিনি ফাঁসির মঞ্চে গিয়েছেন। আল্লাহ যেন তাঁর এ আশা পুরন করে তাঁকে ক্ষমা করে দিয়ে শাহাদতের মর্যাদা দান করেন। এতক্ষনে তিনি আল্লাহর সান্নিধ্যে চলে গিয়ে প্রাণ খুলে হাসছেন নিশ্চয়ই, কিন্তু তার বিরহে কাঁদছে বাংলাদেশ, কাঁদছে সারা বিশ্বের তৌহিদীবাদী জনতা। শহীদের মর্যাদা লাভ করে আমাদের প্রান প্রিয় শহীদ আব্দুল কাদের মোল্লা ভাই খুবই সৌভাগ্যবান, যে সৌভাগ্য সারা জীবন আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেও সবার ভাগ্যে জোটে না। কিন্তু আমরা খুবই দুর্ভাগ্যবান এক জাতি যারা সর্ব নিকৃস্ট এ যালিম শাসকদের বিরুদ্ধে জিহাদ (প্রতিরোধ সংগ্রাম) করে মুসলিম হত্যাকাণ্ড বন্ধ করতে পারলাম না। এ জন্য আল্লাহর বিচারের কাঠগড়ায় আমাদেরকেও দাড়াতে হবে নিরব দর্শকের ভূমিকা পালনের কারনে, যেভাবে ১৭৫৭ সালে নবাব সিরাজ উদ দৌলাকে বিদেশী ব্রিটিশ প্রভু ক্লাইভের নির্দেশে এ দেশের ষড়যন্ত্রকারী ব্রিটিশ তাবেদার শাসক মীর জাফরের প্রহসনের বিচারের রায়ে হত্যা করার সময় কোটি কোটি বাঙ্গালী জনতা নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছিলো। আর তাঁর খেসারত এ বাঙ্গালী জাতিকে দিতে হয়েছে দুশত বছরের বিদেশী প্রভু ব্রিটিশদের গোলামী করে। সেই একই আলামত ও নমুনা আজ ২০১৩ সালেও লক্ষ করা যাচ্ছে। তবে এখন বিদেশী প্রভু হলো পৌত্তলিক ব্রাহ্মন্যবাদী ভারত এবং বিদেশী প্রভুর তাবেদারের ভূমিকায় বর্তমান ইসলাম বিদেষী বিশ্বাস ঘাতক আওয়মী যালিম শাসক। আব্দুল কাদের মোল্লা ভাইর সাথে আমার বিশেষ একটি সম্পর্ক ছিল, আর তা হল কুফরী শিক্ষা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের স্কুল ও মাদ্রাসাগুলিতে প্রাথমিক স্তর থেকে শুরু করে সর্বস্তরে তৌহিদী শিক্ষা ব্যবস্থা চালুর উদ্দেশ্যে “ইসলামিক এডুকেশন সোসাইটি” নামে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠে। আব্দুল কাদের মোল্লা ভাইর তুলনায় আমার তেমন কোন যোগ্যতা না থাকলেও আল্লাহর মেহেরবানীতে আব্দুল কাদের মোল্লা ভাইর সাথে আমিও ঐ প্রতিষ্ঠানের একজন সদস্য। ইসলামিক এডুকেশন সোসাইটির অনেকগুলি কার্যক্রমের মধ্যে একটি প্রধান কার্যক্রম- ইসলাম ধর্ম পাঠ্য পুস্তক ছাড়াও বাংলা, অঙ্ক, ইংরেজী,সমাজ পাঠ, বিজ্ঞান সবগুলি পাঠ্য পুস্তকে কুফরী ও শেরেকী বিষয়গুলি উচ্ছেদ করে আল্লাহর একত্ব এবং শ্রেষ্টত্ব তুলে ধরে ধর্মীয় চেতনায় শিক্ষিত আদর্শ চরিত্রবান নাগরিক গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে ইসলামী ভাবধারায় পাঠ্য পুস্তক তৈরী করা। আর এ উদ্দেশ্য স্কুল, মাদ্রাসা ও কিণ্ডার গার্টেনে প্রথমিক স্তর থেকে শুরু করে উচ্চ স্তর পর্যন্ত বিজ্ঞান পাঠ্য বই রচনার দায়িত্ব আল্লাহর মেহেরবানীতে আমি পালন করি এবং ১৯৯৩ সালে প্রথম“আদর্শ পরিবেশ পরিচিতি (বিজ্ঞান)” সিরিজের পাঠ্য পুস্তক আমি রচনা করার পর শহীদ আব্দুল কাদের মোল্লা ভাই এবং বর্তমানে ঢাকার উত্তরায় অবস্থিত আই.ই.এস মডেল স্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ মঞ্জুরুর হক ভাই তা সম্পাদনা করেন। কয়েকদিন আগে যখন শহীদ আব্দুল কাদের মোল্লা ভাইর ফাঁসি কার্যকর করার পস্তুতি চলছিল তখন অতীতের সেই স্মৃতি স্মরন করে ৩য় শ্রেনীর “আদর্শ পরিবেশ পরিচিতি (বিজ্ঞান)”বইটার মলাট খুলে প্রথম পাতায় রচনা আমার নামের নিচে সম্পাদনা আব্দুল কাদের মোল্লা নামটা পড়ে আমি খুবই মর্মাহত ও বিষাদগ্রস্ত হয়ে পড়লাম এবং হু হু করে অন্তরাত্মা কেঁদে উঠলো। আজ এ মুহুর্তে আমার সেই প্রিয় শহীদ আব্দুল কাদের মোল্লা ভাইকে হারিয়ে আমি অতি শোকাহত ও গভীর মর্মাহত, নিজের মনকে কিছুতেই নিয়ন্ত্রন করতে পারছি না। কয়েকদিন যাবৎ গভীর উৎকন্ঠায় কোন কাজে মন বসাতে পারছিলাম না এবং এ মুহুর্তে তাঁকে অন্যায়ভাবে ফাঁসি দিয়ে হত্যার খবর শুনে শোকে পাথর, নিজের মনকে শান্তনা দেওয়ার ভাষাও হারিয়ে ফেলেছি। যতদিন আল্লাহ আমাকে বাঁচিয়ে রাখবেন ততদিন শহীদ আব্দুল কাদের মোল্লা ভাইর সাথে নিবির সম্পর্কের এ স্মৃতি কিছুতেই ভুলতে পারবো না। ইসলামিক এডুকেশন সোসাইটির কর্মকর্তাদেরকে অনুরোধ করবো আমার এবং অন্যন্য ভাইদের লেখা পাঠ্য পুস্তকগুলিতে যেখানে সম্পাদনায় আব্দুল কাদের মোল্লা নাম আছে সেখানে তাঁর নামের সাথে শহীদ শব্দটি যোগ করবেন আশা করি। হাদীসে আছে শহীদরা তাদের পরিবার পরিজন, আত্মীয় স্বজন এবং পরিচিত পছন্দের লোকদের জন্য জান্নাতের সুপারিশ করতে পারবে যাদের অনেকেরই জাহান্নাম ওয়াজিব হয়ে গিয়েছে, সুপারিশ করার এমন ক্ষমতা ও সৌভাগ্য রাসুলুল্লাহ (স) ছাড়া আর কোন সাধারন মুসলমানকে দেওয়া হয় নাই। এ থেকেই বুঝা যায় শহীদের মর্যাদা কত বড়। কিন্তু আমার দুর্ভাগ্য, যালিম শাসকদের নিষ্ঠুর আচরনের কারনে আমার প্রিয় শহীদ আব্দুল কাদের মোল্লা ভাইর সাথে শেষ দেখা করতে পারলাম না। তাঁর সাথে শেষ দেখা করতে পারলে অনুরোধ করতে পারতাম, যেভাবে আমার লেখা বিজ্ঞান পাঠ্যপুস্তক সম্পাদনা করে দিয়েছেন সেভাবে রোয কিয়ামতের দিন কঠিন সময়ে জান্নাতে যাওয়ার পথটাও যেন সম্পাদনা করে দেন, অর্থাৎ আমার জন্য যেন সুপারিশ করেন। আজ এ মুহুর্তে আমার প্রিয় শহীদ আব্দুল কাদের মোল্লা ভাইকে হারিয়ে গভীর মর্ম যাতনা ভোগ করলেও একথা ভেবে শান্তনা পাচ্ছি যে, তাঁর আদর্শ ও অনুপ্ররনায় উজ্জীবিত হয় আরো দ্বিগুন বেশী উৎসাহ নিয়ে ইসলামিক এডুকেশন সোসাইটির আদর্শ শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারি আল্লাহ যেন সেই যোগ্যতা দান করেন। “আদর্শ পরিবেশ পরিচিতি (বিজ্ঞান)” বইর লেখক হিসাবে আমার নামের পাশে সম্পাদক হিসাবে যেভাবে শহীদ আব্দুল কাদের মোল্লা ভাইর নামটা আছে সেভাবে জান্নাতেও যেন সশরীরে শহীদ আব্দুল কাদের মোল্লা ভাইর পাশে থাকতে পারি। আল্লাহর কাছে এখন এ দোয়াই করি। আমার প্রিয় শহীদ আব্দুল কাদের মোল্লা ভাইর জন্ম ১৯৪৮ সালের ১৪ আগষ্ট ফরিদপুর জেলার সদরপুর থানার আমিরাবাদ গ্রামে। ঐ একই দিন বাংলার অবহেলিত মুসলিম জনতা ব্রিটিশ গোলামী থেকে মুক্তি লাভ করে এবং তাই সেই মুক্তি ও স্বাধীনতার আনন্দের সাথে আমিরাবাদ গ্রামের মোল্লা বাড়ীতে যোগ হয় নবজাতক জন্ম গ্রহনের আনন্দ। আমি নিজেও বর্তমান প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার গ্রামের বাড়ী টুঙ্গীপাড়ার পাশের একটি গ্রামের মোল্লা বাড়ীর সন্তান, এ দিক দিয়েও শহীদ আব্দুল কাদের মোল্লা ভাইর সাথে আমার একটা মিল আছে। শহীদ আব্দুল কাদের মোল্লা ভাই শুধুমাত্র একজন রাজনীতিবিদই ছিলেন না, একজন স্বনামধন্য শিক্ষাবিদও ছিলেন যা উপরে সামান্য উল্লেখ করেছি, শুধু তাই নয় সাংবাদিকতা পেশায়ও তিনি ছিলেন সফল। এক কথায় তিনি ছিলেন একের ভিতর অনেক গুনের অধিকারী এবং ছাত্রজীবনে তিনি অসম্ভব মেধাবী ছাত্র ছিলেন। বিজ্ঞানের ছাত্র হয়েও এমন কোন শাখা নাই যেখানে পদচারনা করেন নাই এমন বিরল প্রতিভা ছিল তাঁর। তিনি যথাক্রমে ১৯৫৯ ও ১৯৬১ সালে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা বৃত্তি লাভ করেন এবং ১৯৬৪ সালে আমিরাবাদ ফজলুল হক ইন্সিটিউট থেকে প্রথম শ্রেণীতে মাধ্যমিক পরিক্ষায় কৃতকার্য হন। এরপর তিনি একই জেলার রাজেন্দ্র কলেজে ভর্তি হন এবং কৃতিত্বের সাথে ১৯৬৬ সালে উচ্চমাধ্যমিক পরিক্ষায় উত্তীর্ন হন। ১৯৬৮ সালে তিনি একই কলেজ থেকে বিএসসি পাশ করেন। কিন্তু প্রবল আর্থিক সংকটের কারনে এরপর তাকে শিক্ষকতা পেশায় আত্মনিয়োগ করতে হয়। পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়া হয়নি তখন আর। পরবর্তীতে ১৯৭০ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন। মুক্তিযুদ্ধের কারনে ১৯৭১ সালে তার মাস্টার্স পরীক্ষা দিতে পারেন নাই। পড়াশুনার পাশাপাশি আর্থিক সংকটের কারনে তিনি প্রাইভেট টিউশনি এবং খণ্ডকালিন চাকরীও করেছেন। গোপালগঞ্জ তখন জেলা হয় নাই, ফরিদপুর জেলার অধীনে একটি মহাকুমা ছিল এবং তৎকালিন বৃহত্তর ফরিদপুর জেলার বাসিন্দা হিসাবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের বিশেষ সুপারিশে ১৯৭৪ সালে তিনি সরকারি প্রতিষ্ঠান ইসলামিক ফাউন্ডেশনে সংস্কৃতি কর্মকর্তা হিসাবে চাকরি নেন। এ চাকরী করা অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়শুনাও চালিয়ে যান। ১৯৭৫ সালে তিনি সামাজিক বিজ্ঞানের শিক্ষা প্রশাসন থেকে ডিপ্লোমা ইন এডুকেশন ডিগ্রী অর্জন করেন এবং অতীতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করে প্রথম শ্রেণীতে প্রথম স্থান অধিকার করেন। পরে ১৯৭৭ সালে তিনি শিক্ষা প্রশাসন থেকে এম,এড (মাস্টার্স অব এডুকেশন) ডিগ্রী অর্জন করেন। এখানেও তিনি প্রথম শ্রেনীতে প্রথম হন। শহীদ আব্দুল কাদের মোল্লা ভাই এমন একজন অসাধারন শিক্ষা অনুরাগী ছিলেন যিনি ছাত্র জীবন থেকেই শিক্ষকতা শুরু করেন এবং ১৯৭৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ঢাকার বিখ্যাত বিদ্যাপীঠ উদয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের খন্ডকালীন শিক্ষক হিসাবে যোগদান করেন। পরে তিনি বাংলাদেশ রাইফেলস পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের সিনিয়র শিক্ষক হিসাবে যোগদান করেন এবং পরে ঐ একই প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৮ সালে তিনি রিসার্স স্কলার হিসাবে ইসলামিক এডুকেশন সোসাইটিতে যোগ দেন যে প্রতিষ্ঠানের সাথে আমি এ অধম জড়িত যা উপরে উল্লেখ করেছি। ইসলামিক এডুকেশন সোসাইটিতে দায়িত্ব পালন করা অবস্থায় তিনি ১৯৮০ সালে বাংলাদেশে সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ফুয়াদ আবদুল হামিদ আল খতিবের ব্যক্তিগত উদ্যোগে ও আর্থিক সহায়তায় দেশে মুসলমান ছেলে-মেয়েদের আধুনিক শিক্ষা প্রসারের উদ্দেশ্যে ‘মানারাত ইন্টারন্যাশনাল স্কুল’ নামে আন্তর্জাতিক মানের একটি ইংলিশ স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন,যা বর্তমানে মানারাত ইউনিভার্সিটি হিসেবে পরিচিত এবং ঐ প্রতিষ্ঠানে প্রতিষ্ঠাতা সেক্রেটারি হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। সেখানে তিনি প্রায় এক বছর কাজ করেন। ইসলামিক এডুকেশন সোসাইটির পরিচালনায় তিনি পর পর তিন মেয়াদের জন্য বাদশাহ ফয়সাল ইন্সটিটিউট ও এর ট্রাস্টের সেক্রেটারির দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও ইসলামিক এডুকেশন সোসাইটির পরিচালনায় বিভিন্ন স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির দায়িত্বও দক্ষতার সাথে পালন করেন। আমার প্রিয় শহীদ আব্দুল কাদের মোল্লা ভাই কত বড় অসাধারন মানের শিক্ষা অনুরাগী ছিলেন তা বর্ননা করে শেষ করা যাবে না, উপরের সামান্য যেটুকু বর্ননা করলাম তা থেকেই বুঝা যায়। তিনি সক্রিয়ভাবে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক সংস্থার সাথেও যুক্ত ছিলেন। তাঁর নিজ থানা সদরপুর মাদরাসা ও এতিমখানা, ফরিদপুর জেলার হাজিডাঙ্গি খাদেমুল ইসলাম মাদরাসা ও এতিমখানা,সাইয়্যেদ আবুল আ’লা মওদূদী একাডেমী অন্যতম। ১৯৮১ সালে তিনি বিখ্যাত দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক হিসাবে যুক্ত হন। তখন থেকেই তিনি সাংবাদিকতার সাথে জড়িত হয়ে পড়েন এবং ১৯৮২ ও ১৯৮৩ সালে তিনি পরপর দুই বার ঢাকা ইউনিয়ন অব জার্নালিস্ট (ডি ইউ জে) এর সহসভাপতি নির্বাচিত হন। সাংবাদিকতা পেশায় থাকা অবস্থায় তিনি দেশ বিদেশের সমসাময়িক বিষয়ের উপর অনেক কলাম ও প্রবন্ধ লিখেছেন। ইসলামের বিভিন্ন দিকের উপরো তাঁর লেখা সুচিন্তিত কলাম ও প্রবন্ধ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দৈনিক, সাপ্তাহিক, মাসিক পত্রিকা ও ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়াও বস্তুবাদ, কম্যূনিজমের উপরে তার বৈজ্ঞানিক সমালোচনা শিক্ষিত মহলের কাছে সমাদৃত হয়েছে। সাংবাদিকতা পেশায়ও শহীদ আব্দুল কাদের মোল্লা ভাইর সাথে আমার কিছুটা মিল আছে। বিজ্ঞানের ছাত্র হয়েও আমি ছাত্র জীবনে একটি পত্রিকার সম্পাদক থাকা অবস্থায় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলাম এবং ইঞ্জিনীয়ারিং পাশ করার পর ইঞ্জিনীয়ারদের পেশাজীবি সংগঠনে পর পর তিনবার সারা বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় প্রচার ও পত্রিকা সম্পাদক নির্বাচিত হই। তবুও আমি বলবো আমার প্রিয় শহীদ আব্দুল কাদের মোল্লা ভাইর তুলনায় সামান্যতমও যোগ্যতা অর্জন করতে পারি নাই, এত অসাধরন গুনের অধিকারী ছিলেন তিনি। ছাত্রজীবন শেষে ১৯৭৭ সালের মে মাসে তিনি বৃহত্তর ইসলামী আন্দোলন, জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশে যোগ দেন এবং ১৯৭৮ সালের নভেম্বর মাসে রুকন হিসাবে শপথ নেন। তারপর থেকে তিনি বিভিন্ন পদে উন্নীত হয়ে সর্বশেষ সহকারী সাধারন সম্পাদক হিসাবে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করে গিয়েছেন। ২০০১ সালে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পর আল্লাহর অশেষ রহমতে হার্ট অপারশনে নতুন জীবন ফিরে পাওয়ার পর বাকী জীবন মানসিক চাপমুক্ত থাকতে এবং পরিশ্রমের কাজ করা থেকে বিরত থেকে বিশ্রাম ও নিয়মিত ঐষধ সেবন করতে ডাক্তারের পরামর্শ থাকা সত্ত্বেও তিনি নিষ্ঠার সাথে ইসলামী আন্দোলনের কঠিন দায়িত্ব ও পরিশ্রমের কাজ করে গিয়েছেন। ইসলামী আন্দোলনের কাজে যথার্থ বিশ্রাম ও নিয়ম পালন তিনি করতে তো পারতেনই না, অধিকন্তু অনেক মানসিক চাপও সহ্য করেছেন। হার্ট অপারশনের পর তিনি একবার আবেগে আপ্লুত হয়ে বলেছিলেন,“ডাক্তার আমাকে বিশ্রাম নিতে বললেও আমি বিশ্রাম নিতে পারতাম না। আমি বাসায় বিশ্রাম নিচ্ছি এমন সময় দেখা গেল ইসলামী আন্দোলনের একজন সাধারন কর্মী আমার বাসায় এসে হাজির আমার সাথে দেখা করার জন্য। আমার স্ত্রী পর্দার আড়াল থেকে যখন বলে ‘উনি এখন বিশ্রাম নিচ্ছেন’, তখন তিনি আমার স্ত্রীকে বলেন, ‘ওনার কানের কাছে গিয়ে আস্তে বলেন- অনেক দূর থেকে অমুক ভাই এসেছে’। এরপর আমি সারা না দিয়ে কি পারি?” এ কথা শুনে আমিও নিজের মনের আবেগ আর ধরে রাখতে পারি নাই, নিরবে শুধু কেদেছি। আমার সবচেয়ে বেশী কষ্ট লেগেছে বিশেষ করে মিথ্যা যুদ্ধ অপরাধ মামলায় তাকে গ্রেফতারের পর যখন জেলের ভিতর অনেক মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে এবং যেভাবে প্রচণ্ড গরমের মধ্যে একজন হার্টের ও ডায়াবেটিক রোগীকে আলো বাতাস বিহীন প্রিজন ভ্যানে করে জেল থেকে আদালত ও আদালত থেকে জেলে টানা হ্যাঁচরা করা হয়েছে তা দেখে। Engr Abu Al Hossain [চলবে >>> ২য় পর্ব দেখুন]

যদি কখনও সময় পাও তবে একবার হলেও লিখো- কাদের মোল্লা আর কসাই কাদের এক নয় (সেই চিঠির কপিসহ)
11 Dec, 2013
কাদের মোল্লার উস্তাভাজি- ডাল, বৈকালিক গান এবং একটি চিরকুটের ইতিকথা…

ছোট্ট একটি ব্যক্তিগত দায় থেকে আজকের লেখাটির অবতারণা। কাসিমপুর জেল থেকে মুক্তির দিন সকালেই ঘটলো ঘটনাটি। মুক্তি লাভের আশা আর জেল গেটে পুনরায় গ্রেফতার হবার আশংকার দোলা চলে দুলতে দুলতে আমি আমার মালপত্র গুছাচ্ছিলাম। এমন সময় লুঙ্গি পরা এক ব্যক্তি আমার রুমে ঢুকে সালাম দিলো এবং বললো- কাদের মোল্লা সাহেব আপনাকে একটি চিঠি দিয়েছেন। মুহুর্তের মধ্যে আমি কিং কর্তব্য বিমূঢ় হয়ে পড়লাম। সিদ্বান্ত নিতে পারছিলাম না, চিঠিটি কি গ্রহণ করবো না ফেরত পাঠাবো। এরই মধ্যে আগন্তক টেবিলের ওপর চিঠিটি রেখে তড়িৎ গতিতে চলে গেলেন। আমি কম্পিত হস্তে চিঠিটি খুললাম। একটি ছেড়া ছোট কাগজে ৩/৪টি বাক্য লিখেছেন কাদের মোল্লা। কিন্তু বাক্যগুলোর তীর্যক অভিব্যক্তি আমাকে যারপরনাই আহত করলো। সেই চিরকুটের ইতি কথা বলার পূর্বে আরো কিছু প্রসঙ্গ পাঠকগণকে জানাতে চাই-

কাসিমপুর জেলে ঢোকার পর পরই আমার জেলমেটগণের নিকট কাদের মোল্লার সম্পর্কে বহু কথা শুনছিলাম হররোজ। বিশেষ করে খাবার টেবিলে তার সম্পর্কে আলোচনা হতো সব চেয়ে বেশি। ট্রাইব্যুনালের রায়ে দোষী সাবস্ত হবার পূর্বে ডিভিশন প্রাপ্ত বন্দী হিসেবে সুরমা সেলেই ছিলেন। ডায়াবেটিসের রুগি। খাবার টেবিলে বসে প্রথমেই বলতেন কিছুই খাবেন না। তার পর একটার পর একটা খাবারের দিকে তাকাতেন। শিশুর মতো হাসি দিয়ে বলতেন মামুন- গোস্তের রংটা বোধ হয় ভালই হয়েছে। তার পর মাহমুদুর রহমান সাহেবের দিকে তাকিয়ে বলতেন ঘ্রানটাও তো চমৎকার। মীর কাসিম বা অন্য বন্দীদের দিকে তাকিয়ে এমন ভাব করতেন যেন কাদের মোল্লা সাহেবকে খাওয়ার জন্য একটু অনুরোধ করেন। এক সময় তিনি অনুরোধে সাড়া দিয়ে খাওয়া শুরু করতেন এবং হই-হল্লোড়, হাসি- তামাসা এবং নানা রকম গল্প উপাখ্যান বলে পুরো খাবার টেবিল মাতিয়ে রাখতেন। বিষন্ন বন্দীরা তাই কাদের মোল্লার উপস্থিতিটাকে এক ধরনের প্রশান্তি হিসেবে গণ্য করতো।

অমি যখন জেলে ছিলাম তখন কাদের মোল্লা ছিলেন অন্য সেলে সাধারণ বন্দীদের মতো। যুদ্ধাপরাধের সাজাপ্রাপ্ত আসামী হিসেবে তার প্রতি ছিলো জেল কর্তৃপক্ষের সতর্ক প্রহরা। ফলে প্রতি বিকেলে পাশাপাশি সেলের বন্দীরা নিজেদের সীমানা প্রচীরের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে কথা বার্তা বলার চেষ্টা করতো আবার পুরোনো বন্দীদের কেউ কেউ রাস্তায়ও বের হয়ে আসতো। কিন্তু কাদের মোল্লাকে সেই সূযোগ দেয়া হতো না। কাদের মোল্লার সেবক সকাল বিকালে আমাদের সেলে আসতো ফ্রিজ থেকে ইনসুলিন নেবার জন্য। জেল কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে কে বা কারা যেনো সুরমা সেলে ছোট্ট একটি ফ্রিজ বসিয়েছিলো কেবল মাত্র কাদের মোল্লার ওষুধ পত্র রাখার জন্য। সেই ফ্রিজে কাদের মোল্লার ডায়াবেটিসের ওষুধ পত্র থাকতো। সেবক যখন ওষুধ নিতে আসতো তখন তার নিকট থেকে কাদের মোল্লা সম্পর্কে টুকটাক জানতে পারতাম।

বন্দী জীবনের নিরন্তর সময় যেনো আর কাটতে চাইতো না। ফলে আমরা সময় টুকুকে যথাসম্ভব আনন্দ মূখর করার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করতাম। যার যতো জ্ঞান বা প্রতিভা ছিলো- সবই উজার করে দিতাম সহযাত্রীদেরকে আনন্দ দেবার জন্য। একদিন বিকেলে বসেছিলাম সুরমা সেলের বারান্দায়। পাশাপাশি চেয়ার নিয়ে আমরা সবাই- গিয়াসউদ্দিন আল মামুন, মাহামুদু রহমান, মীর কাসিম আলী আর এটিএম আজাহার। হঠাৎ নীরব হয়ে গেলাম অজানা কারনে। অর্থ্যাৎ বলার মতো কোন কথা ছিলোনা কারো মূখে। হঠাৎ মামুনই বলে উঠলো- এই সময় মোল্লা ভাই থাকলে আমাদের সবাইকে গান শোনাতেন। জামাতের লোক আবার গান গায় নাকি- মনে মনে টিটকারী কেটে জিজ্ঞাসা করলাম- কি গান গাইতেন? রবীন্দ্র সঙ্গীত- অসাধারণ তার গায়কী গলা আর সুরের ঢং- মাহমুদুর রহমান বললেন।

আমি নিজে টুকটাক গাইতে জানি। তাই প্রস্তাব করলাম কিছু একটা গাওয়ার জন্য। তারা আগ্রহ দেখালে আমি একটি রবীন্দ্র সঙ্গীত গাইলাম- ‘মনে কি দ্বিধা রেখে গেলে চলে’। সবাই শুনলেন এবং প্রশংসা করলেন। তবে একথা বললেন যে, আমার চেয়েও কাদের মোল্লা সুন্দর করে গান করেন। তার গান পরিবেশনের সময় তিনি উপস্থিত লোকজনের সঙ্গে এমনভাবে চোখের ভাব বিনিময় করেন যে শ্রোতাগণ তার সঙ্গে গুণগুনিয়ে কন্ঠ মেলাতে বাধ্য হন। ফলে পুরো অনুষ্ঠান হয়ে উঠে প্রাণবন্ত। অন্যদিকে আমি গান করি চোখ বুঝে। যখন আমার সঙ্গী-সাথীগণ যখন আমাকে চোখ খোলা রেখে আরো একটি গান গাইতে অনুরোধ করলেন তখন আমি ভারী লজ্বা পেয়ে গেলাম এবং আর এগুতো পারলাম না। ফলে তারা আবার পুনরায় কাদের মোল্লার প্রশংসা করতে থাকলেন।

একদিন আমরা সকলে খাবার টেবিলে বসে দুপুরের খাবারের জন্য অপেক্ষা করছিলাম। সেবকরা তখন খাবার পরিবেশনের জন্য এঞ্জাম করছিল। এমন সময় কাদের মোল্লার সেবক এসে গিয়াস উদ্দিন আল মামুনের নিকট ছোট একটি চিঠি ধরিয়ে দিল। চিঠিটি পড়ার পর মামুনের মূখমন্ডল ক্ষোভ, লজ্বা আর রাগে লাল হয়ে গেল। এরপর সে চিঠিটি মীর কাসেম আলীর হাতে দিল। কাসেম সাহেব চিঠিটি পড়ে কাদঁতে আরম্ভ করলেন। আমার হাতে যখন চিঠিটি এলো তখন দেখলাম কাদের মোল্লা লিখেছেন-
প্রিয় মামুন,
সালাম। নিতান্ত বাধ্য হয়েই তোমার সেবক মতির বিরুদ্ধে তোমার নিকট নালিশ জানালাম। ইদানিং কোনো জানি আমার বেশি বেশি ডাল আর উস্তা ভাজি খেতে ইচ্ছে করে। আমার নিজের অর্থ দিয়ে এসব কিনে খাওয়া যে সম্ভব নয় তা তুমি জানো। তুমি আমার জন্য এ যাবৎ অনেক কিছু করেছ- আর তাই তোমার উপর অজানা এক অধিকার জন্ম নিয়েছে। সেই অধিকার বলে আমার সেবককে বলেছিলাম চোখায় (রান্না ঘরে) যখন খাবার ভাগাভাগি হয় তখন মামুনদের ভাগ থেকে একটু ডাল আর উস্তাভাজি বেশি করে নিও আমার জন্য। কিন্তু তোমার সেবক আমাকে এই সূযোগ দেয়নি। জীবন-মৃত্যুর শেষপ্রান্তে দাড়িয়ে এই অভাগা তার ছোট ভাইয়ের নিকট একটু ডাল আর উস্তাভাজি চেয়ে যদি অন্যায় করে থাকি তবে মাফ করে দিয়ো। ইতি-

চিঠি পড়ে আমরা সবাই স্তম্ভিত হয়ে গেলাম। মাহমুদুর রহমান সাহেব বললেন- কাল থেকে মোল্লা সাহেবের জন্য আলাদা ডাল আর উস্তাভাজি রান্না হবে। সব বিল আমি দেব। মামুন ক্রোধে কাঁপছিল আর সেবককে শাসাচ্ছিল। আর অন্যরা একধরনের বিষন্নতার নষ্টালজিয়ায় ভুগতে লাগলাম।

এবার আমি বলছি- আমার কাছে লিখা কাদের মোল্লার চিরকুট কাহিনী। তিনি লিখেছেন-
প্রিয় রনি,
যদি কখনও সময় পাও এবং তোমার ইচ্ছা হয় তবে আমার ফাঁসির পর একবার হলেও বলো বা লিখো- কাদের মোল্লা আর কসাই কাদের এক ব্যক্তি নয়। আমার আত্মা কিয়ামত পর্যন্ত কাঁদবে আর কসাই কাদের তখন কিয়ামত পর্যন্ত অট্টহাসি দিবে।
উৎসঃ ফেসবুক
Share on facebookShare on emailShare on print344

মোল্লা ভাইকে যেমন দেখেছি : প্রেক্ষাপট কাশিমপুর কারাগার- ২
–আবু সালেহ ইয়াহইয়া

(সেপ্টেম্বর মাসে আব্দুল কাদের মোল্লা ভাইর সাথে আমার জেল স্মৃতি নিয়ে এ লেখাটা লিখেছিলাম। আজ আবার তাঁর শাহাদাতের পর পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরছি)
এখন থেকে ঠিক তিনমাস আগের কথা। জুন মাসের ১৬ কি ১৭ তারিখ। কাশিমপুর কারাগার পার্ট- ২ এ পরিবারের সদস্যদের সাথে সাক্ষাৎ শেষে ৬০ সেলের দিকে ফিরছেন আব্দুল কাদের মোল্লা ভাই। আমিও সংগঠনের একজন ভাইয়ের সাথে সাক্ষাৎ করে ৪ নং বিল্ডিং এর দিকে ফিরছিলাম। হঠাৎ মোল্লা ভাইকে দেখে নিজেকে খুব সৌভাগ্যবান মনে করলাম। আমতলা নামক জায়গায় দাঁড়িয়ে গেলাম তাঁর সাথে একটু কথা বলার জন্য। এর আগে বহু চেষ্টা করেও তাঁর সাথে সাক্ষাতের অনুমতি পাইনি। তিনি আমতলা অতিক্রম করে দ্রুত হেটে চলে যাচ্ছিলেন। আমি সালাম দিয়ে তাকে আমার পরিচয় বললে তিনি বললেন-হ্যাঁ শুনেছি তুমি এখানে (কাশিমপুর-২ এ) এসেছ। স¦ভাব সুলভ ভঙ্গিতে হাসতে হাসতে জিজ্ঞেস করলেন -এখানে আর কে কে আছে। আমি পুরো জেলে কে কোথায় আছে সবিস্তারে তাকে জানালাম। একটু পরে বললেন “চলো হাটতে হাটতে কথা বলি”, বলেই তিনি দ্রুত গতিতে হাটতে শুরু করলেন। কিন্তু আমার কোমরে আঘাতের ব্যাথাটা একটু বেশীই কষ্ট দিচ্ছিল। তাই একটু হাটার পর দাঁড়িয়ে গেছি দেখে তিনিও দাঁড়িয়ে গেলেন, জিজ্ঞেস করলেন কি হয়েছে তোমার? পায়ে সমস্যা? বললামঃ জি, কিছু সমস্যাতো আছেই। এরপর বললাম আমার কথা থাক, আপনার স্বাস্থ্যের কি অবস্থা? দেখেতো ভাল মনে হচ্ছেনা। বললেন, হ্যাঁ ডায়াবেটিসের সমস্যাতা জানো মনে হয়….তাছাড়া তোমরাতো বুঝই কি সমস্যা। আচ্ছা থাক, বাইরের অবস্থা বল। আমি যতটুকু জানি তাকে বলার পর তারঁ কোন কিছুর প্রয়োজন আছে কিনা জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন,না বেশ ভালই আছি। এর পর বললাম আমাকে প্রতি সপ্তাহে কোর্টে যেতে হয়, আপনার কোন কিছুর প্রয়োজন হলে আমাকে বললে আমি নিয়ে আসার চেষ্টা করব। তিনি বললেন- তোমার প্রতিমাসের কোর্ট তারিখগুলো আমার পরিবারের লোকদের জানিয়ে দিলে ভাল হয়। আমার কোট-টোর্ট নাই। ওরা কোর্টে এসে আমার জন্য কিছু দিলে তুমি নিয়ে আসবে। বা কোন খবর দিলে আমাকে জানাতে পারবে। আমি তার কথায় সম্মতি জানিয়ে সালাম দিয়ে সেদিনের মত বিদায় নিয়েছিলাম। তিনদিন পরে কোর্টে এসে দায়িত্বশীলদের আমার কোর্ট তারিখগুলো জানিয়ে দিয়ে মোল্লা ভাইয়ের পরিবারকে জানাতে বলেছিলাম। তারা সেটা জানাতে পেরেছিলেন কিনা জানিনা। এটি ছিল জেলের ভিতরে মোল্লা ভাইয়ের সাথে আমার তৃতীয়বারের মত সাক্ষাৎ। যেখানে ১০ মিনিটের মত দাঁড়িয়ে কথা বলেছিলাম। এর আগে আরো একবার একই জায়গায় তার সাথে দেখা হয়েছিল। সেদিন ২ মিনিটের বেশী কথা বলতে দেয়নি কারারক্ষীরা। তারও আগে একবার তাঁর সেলের কাছেই ডিভিশন চৌকীর দিকে বেড়াতে গেলে তাঁর সাথে হাত নেড়ে কেবল সালাম বিনিময় করেছিলাম। জানিনা তখন তিনি চিনতে পেরেছিলেন কিনা। ৬০ সেলের ২য় তলার কর্ণারে একটি চেয়ার নিয়ে প্রতিদিন তিনি বসে থাকতেন। রাস্তা দিয়ে হাটলে দূর থেকে কেবল সালাম বিনিময় করা যেত। শুধু তার সাথে একটু সালাম বিনিময় করার জন্য ২/৩ দিন পরপরই ঐ রাস্তা দিয়ে বেড়াতে যেতাম। যদিও সেখান দিয়ে চলাচল করা সাধারণের জন্য নিষিদ্ধ। তাঁর পাশেই একই ফেøারে থাকতেন শামীম সাঈদী ভাই। শামীম সাঈদী ভাই আর আমি ২ টি মামলায় কেইস পার্টনার হওয়ায় প্রায়দিনই একই সাথে কোর্টে হাজিরা দিতে হত। তাঁর কাছ থেকে সব সময় মোল্লা ভাইয়ের খবর নেয়ার চেষ্টা করতাম। একবার আমার ব্যাক পেইনের জন্য কোর্ট থেকে যাবার সময় ২টা হট ওয়াটার প্যাক নিয়ে গেলাম। শামীম ভাই সেখান থেকে একটা নিয়ে গেলেন মোল্লা ভাইকে দেয়ার জন্য । ২৫ আগষ্ট সব মামলায় আমার জামিন হয়ে গেল। জামিন হবার পর মুক্তির পূর্বে তাঁর সাথে একনজর দেখা করার জন্য ব্যাকুল হয়ে চেষ্টা করেছি। সিআইডি জমাদার, সুবেদারকে নানা কায়দায় অনুরোধ করেও শেষ পর্যন্ত দেখা করার অনুমতি পাইনি।

আব্দুল কাদের মোল্লা ভাইকে প্রথম দেখেছিলাম ২০০২ সালে কেন্দ্রীয় সদস্য সম্মেলনে। তখন ভ্রাতৃশিবিরের অনুষ্ঠান চলছিল। অনুষ্ঠানের সভাপতি মীর কাশেম আলী ভাই একপর্যায়ে ঘোষনা করলেন-‘এবার আমরা বুলবুলির গান শুনব, আপনারা কি শুনতে চান? ‘শুনতে চাই’ বলে জোর আওয়াজে পুরো পল্টন মাঠ যেন প্রকম্পিত হয়ে উঠল। আওয়াজ শুনে বুঝা গেল গায়ক বেশ পুরনো। আগ্রহ ভরা চোখে চেয়ে আছি স্টেজের দিকে। কারো নাম ঘোষনা করা হলোনা। একটু পরেই দেখি ছোট খাটো গড়নের শ্যামলা বর্ণের মধ্যবয়সী একজন মানুষ সাবলীল ভঙিতে মাইকের সামনে দাঁড়িয়ে গেলেন। সুমিষ্ট সূরে গাইতে লাগলেন “মোহাম্মদের (স.) নাম জঁপেছিলি বুলবুলি তুই বাগে, নামে এত মধু আছে কে জানিত আগে..।” তার কণ্ঠের সাথে কণ্ঠ মিলিয়ে সবাই গাইতে শুরু করলেন। সে এক অসাধারণ দৃশ্য। গান শেষ হলে বড় ভাইদের থেকে জানলাম ইনিই সেই আব্দুল কাদের মোল্লা ভাই, সদস্য প্রার্থী হওয়ার সময় যার নাম মুখস্থ করেছিলাম।
মুহাম্মাদ (স.) নামের মধুর সন্ধান পেয়ে যিনি পৃথিবীর সকল মধুকে দুপায়ে ডলে ইসলামী আন্দোলনে শুধু শামিলই হননি; শীর্ষ পর্যায়ে যোগ্যতার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন বহু দিন ধরে। আর শুধু এ অপরাধেই (?!) আজ তাকে মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত করে ফাঁসির মাধ্যমে তা নিষ্ঠুরভাবে কার্যকর করেছে ইসলামের শত্রু নামক কীটেরা। শেখ মুজিবের সময় যিনি ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন। তার সময়েই যিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে উদয়ন স্কুলের শিক্ষক হয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে তিনি পাবলিক-রাইফেলস স্কুলের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্বও পালন করেছিলেন। তখন পর্যন্ত তিনি রাজাকার ছিলেননা। ১৯৮২-৮৩ সালে পরপর দু’বার জাতীয় প্রেসক্লাবের সহসভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন, তখন তিনি সাংবাদিক হত্যাকারী ছিলেননা। তার বিরুদ্ধে দেশের কোন থানায় কোন মামলা বা জিডিও ছিলনা। অথচ জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়ে রাজনীতি শুরু করার পরথেকেই তিনি হয়ে গেলেন শীর্ষ যুদ্ধাপরাধী!! তারঁ বিরুদ্ধে কোন যুক্তি-প্রমাণ ছাড়াই দেশের সর্বোচ্চ আদালত থেকে মৃত্যুদন্ড রায় দিয়ে ‘সর্বোচ্চ আদালত’ নিজেই নিজের গায়ে কলঙ্ক লেপন করলেন যেন। মিরপুরের বিহারী কসাই কাদেরের সব অপরাধ তাঁর ঘাড়ে চাপিয়ে, একজন নকল মোমেনাকে দিয়ে ক্যামেরা ট্রায়াল করে মিথ্যা সাক্ষ্যের ভিত্তিতে তাকে মৃত্যুদন্ড দেয় ক্যাঙ্গারু কোর্ট।
আজ তিনি যখন জেলে বসে এমন অন্যায় রায় শুনে অবাক হচ্ছেন, (এটা সেপ্টেম্বর মাসে লেখা) তেমনি জেলের বাইরে থেকে দেশের কোটি মানুষের মত আমিও নির্বাক। যখন বাইরে থেকে তার ব্যাপারে এমন অন্যায় রায়ের কথা শুনছি তখন বার বার মনে পড়ছে জেলের ভিতরে তাঁর সাথে সাক্ষাতের কথা, শত কষ্ট আর নির্যাতনের মধ্যেও তারঁ দৃঢ়চেতা মনোবলের কথা। কয়েদী পোষাকে জেলের ভিতর কখনো তাকে এতটুকু মলিন মনে হয়নি। নানা রোগে ভোগার পরও আমাদের দেখে বলতেন ‘ চিন্তা করোনা, বেশ ভালই আছি’। নানা সংকটের মধ্যেও বলতেন ‘ আমার কোন কিছুর প্রয়োজন নেই’। নিজে হাজারো সমস্যায় জর্জিত, অথচ আমাদের বলতেন তোমাদের কোন সমস্যা আছে কিনা।

ট্রাইবুনালের রায়ের পর তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের মাধ্যমে ‘ভি’ চিহ্ন দেখিয়ে শুধু বাংলাদেশ নয়; গোটা মুসলিম মিল্লাতকেই যেন বলে দিলেন-‘মুমিনের কোন পরাজয় নেই’। বাতিলরা যাকে ‘মৃত্যু’ বলে সেটিইতো মুমিনের পরম পাওয়া শহীদী মৃত্যু। কাজী নজরুল ইসলাম যেমনটি বলছেন- “উহারা চাহুক দাসের জীবন, আমরা শহীদী দরজা চাই, নিত্য মৃত্যু ভীত ওরা, মোরা মৃত্যু কোথায় খুঁজে বেড়াই।”

(১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৩)

I am proud to be a martyr’s daughter: Molla’s daughter Amtullah

SRINAGAR, Occupied Kashmir: Amtullah, the daughter of Jamaat-e-Islami Bangladesh leader Sheheed Abdul Quader Molla, said that she has no regret over the martyrdom of her father.

Addressing a ceremony organised by Duktaran-e-Millat Makbooza Kashmir in connection with the Dhaka Fall over telephone here, she said that her family was content as they have no regret over the martyrdom of the JI leader.

She said that she is proud to be a daughter of a martyr. She hoped that the Allah Almighty will surely make Muslims successful.

Amtullah said that after the Shahadat of her father a wave of deadly violence had rocked Bangladesh as the pro-Indian government had killed around 300 innocent people. She said that on Monday alone 11 JI workers were martyred by security forces.

http://en.jasarat.com/world/proud-martyrs-daughter-mollas-daughter-amtullahI

am proud to be a martyr’s daughter: Molla’s daughter Amtullah

SRINAGAR, Occupied Kashmir: Amtullah, the daughter of Jamaat-e-Islami Bangladesh leader Sheheed Abdul Quader Molla, said that she has no regret over the martyrdom of her father.

Addressing a ceremony organised by Duktaran-e-Millat Makbooza Kashmir in connection with the Dhaka Fall over telephone here, she said that her family was content as they have no regret over the martyrdom of the JI leader.

She said that she is proud to be a daughter of a martyr. She hoped that the Allah Almighty will surely make Muslims successful.

Amtullah said that after the Shahadat of her father a wave of deadly violence had rocked Bangladesh as the pro-Indian government had killed around 300 innocent people. She said that on Monday alone 11 JI workers were martyred by security forces.

http://en.jasarat.com/world/proud-martyrs-daughter-mollas-daughter-amtullah

শহীদ আব্দুল কাদের মোল্লা ভায়ের মেয়ে আমাতুল্লাহ শারমীন

- —————– ———- ———————- ——

আব্বু, সালাম আপনাকে। কেমন আছেন? সবাই বলছে আপনি নেই। কিন্তু আমার বিশ্বাস হয় না। মনে হয়, এখনি এসে বলবেন, শারু আম্মু চা দাও তোঁ , বলবেন আমার মায়েরা কই ?

আর আম্মু বলবে মেয়ে যেন আর কারো নেই ? অথবা বলবেন, আব্বা জানি আর আমাদেরও ছিলো না? আপনার সাথে লাস্ট ডেইটের আগের দিন সাক্ষাতে আমিবলেছিলাম আপনাকে গাজী হিসাবে দেখতে চাই। তারপর যখন নিউজ আসলো ১০ টা পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে তখন ভাবলাম আমার দোয়া কবুল হয়ছে। কিন্তু না, আপনিই জয়ী হলেন।

স্বার্থপরের মত আমি আপনাকে আমাদের আব্বু বানিয়া রাখতে চেয়ে ছিলাম . কিন্তু এখন দেখি আপনাকে আল্লাহ এমন মর্যাদা দিলেন যা আমরা কল্পনাও করিনি। আজকে মনে হচ্ছে শাহীদ আব্দুল কাদের মোল্লা শুধু আমাদের asset না সারা পৃথিবীর ইসলামী আন্দোলনেরও অমূল্য সম্পদ ।আমরা গর্বিত সান্তান। আপনি ভাল থাকেন আল্লাহর আরশের ছায়ায়, জান্নাতের পাখি হয়ে। দোয়া করেন যেনো খুব তাড়াতাড়ি দেখা হয় জান্নাতে।

কারণটাও স্বার্থপরের মত বলছি আমরা আপনার সান্নিধ্য চাই, আমি আমার বাবার বুকে মাথা রাখতে চাঁই, আমার আব্বুর শরীরের সুবাস নিতে চাই। সেই সুবাস যা আমাকে নেশা ধরিয়ে দিতো,এখনও চারদিকে সেই সুবাস অনুভব করি। সবাই বাসায় এসে যখন বলে, তোমরা কত ভাগ্যবান , তখন শান্তনা পাই। কিন্তু তা ও মেয়ের মনতো মানে না। আমাদের দোয়া করেন যেন সবর করতে পারি।

আপনার শারু মনি।
আমাতুল্লাহ শারমীন ।
সেদিন কোরআন ছুয়ে কাদের মোল্লা বললেন, আমি কসাই কাদের না

কামরুজ্জামান বাবলু

আজ ১৩ই ডিসেম্বর ২০১৩। রাত ১০টা। আজ থেকে মাস দেড়েক আগের ঘটনা। তারিখটা ঠিক মনে নেই। একদিন সন্ধ্যার পরে কোথাও এক জায়গায় বসে কয়েকজন চা খাচ্ছিলাম আর আড্ডা দিচ্ছিলাম। কথা হচ্ছিল দেশের সমসাময়িক নানা বিষয় নিয়ে। ওই সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী ব্যারিস্টার মুন্সি আহসান কবীর। আলোচনাক্রমে আসে জামায়াত নেতা আব্দুল কাদের মোল্লার মৃত্যুদণ্ডের রায়ের প্রসঙ্গটি ।

ব্যারিস্টার আহসান কবীর এ সময় বলেন, কিছুদিন আগে তিনি জেলগেটে দেখা করতে গিয়েছিলেন আব্দুল কাদের মোল্লার সাথে। ওই সময় মোল্লার হাতে ছিল একটি ছোট্ট কোরআন শরীফ। কাদের মোল্লা কোরআন শরীফটি দেখিয়ে বললেন, মুন্সি আমার হাতে এটা কী? ব্যারিস্টার আহসান কবীর বললেন, এটা তো কোরআন শরীফ।

ওই কোরআন শরীফটি হাতে উচু করে কাদের মোল্লা তখন বললেন, মুন্সি হয়তো আমার ফাঁসি হয়ে যাবে। কিন্তু আজ এই কোরআন শরীফ হাতে নিয়ে আমি আল্লাহর নামে শপথ করে বলছি, ১৯৭১ সালে মিরপুরে কসাই কাদের কর্তৃক যেইসব হত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য আমাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হলো তার একটি অপরাধের সাথেও আমার দূরতম কোন সম্পর্ক নেই। কাদের মোল্লা বলেন, আল্লাহর নামে শপথ করে বলছি আমি ১৯৭৩ সালের আগে কোনদিন মিরপুরেই যাইনি।

সেইদিনের আব্দুল কাদের মোল্লার সেই কোরআন নিয়ে শপথের কোন আইনী মূল্য ছিল না। কারণ একদিকে চলছে প্রহসনের বিচার। আর অন্যদিকে চলছে ইসলামী আন্দোলনের সাথে জড়িত লোকদের সম্পর্কে দেশের সাধারণ মানুষকে ভুল বোঝানোর মহোৎসব। নিজেদেরকে প্রগতিশীল বলে পরিচয়দানকারী কিছু চরিত্রহীন, লম্পট গণমাধ্যমকর্মী মরিয়া হয়ে এমন অপপ্রচারে নামেন যাতে ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন ও এই আন্দোলনের শীর্ষ নেতাদের থেকে দেশের সাধারণ মানুষ মুখ ফিরিয়ে নেয়।

যাই হোক, কাদের মোল্লার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হলো। কেনই যেন বার বার মুন্সি আহসান কবীরের সাথে সেদিনেরই সেই আড্ডার স্মৃতি বার বার মনে ভেসে উঠছে। বার বার সচেতন মন বলছে, সত্যিই একজন সদা হাস্যজ্জল, সাদাসিদে কাদের মোল্লা, যার নিস্পাপ চেহারাই বলে দেয় তিনি কোন অপরাধের সাথে জড়িত থাকতে পারেন না। মিরপুরের কুখ্যাত ডাকাত বিহারী কসাই কাদেরের সমস্ত অপরাধ জেনে বুঝে ঠান্ডা মাথায় কাদের মোল্লার ঘাড়ে চাপিয়ে দিল কতিপয় জ্ঞানপাপী। এ যেন সিনেমাকেও হার মানালো।

মন শুধু একটি কথাই বলছে, ইতিহাসে মিথ্যা কখনো চিরকাল সত্য হয়ে থাকে না। আজ যারা জেনে বুঝে নির্দোষ কাদের মোল্লাকে ফাঁসিকাষ্ঠে ঝুলিয়ে বিজয়ীর হাসি হাসছেন, তারাই একদিন জাতির কাছে কলংকিত প্রমানিত হবেন। তাদের আসল চরিত্র জাতির কাছে একদিন উন্মোচিত হবেই। আর কাল কেয়ামতের ময়দানে মোল্লার হাসি আর আজকের হট্টহাসিতে নিমজ্জিত মোল্লার খুনিদের কান্নার দৃশ্য যেন আমি দেখতে পাচ্ছি। সেইদিনের অপেক্ষায় থাকলাম।

লেখকঃ সাংবাদিক
More coming

1 Response

  1. nazrul says:

    Disclaimer: I (Nazrul Islam) have simply compiled postings of other people without altering it.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>